প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বহু সুযোগ হারিয়ে সুপার ওভারে বাংলাদেশের হার। কালো উইকেটে নিজেদের পাতা ফাঁদে হারের ক্ষত দীর্ঘ দিন পোড়াবে টাইগারদের। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ জিততে শেষ ওয়ানডেতে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজে দুই দলই একটি করে ম্যাচ জেতায় তৃতীয় ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে। মিরপুরে ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর দেড়টায়।
মিরপুরের স্পিন স্বর্গে দুই দলই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে স্পিন বিভাগেই বেশি গুরুত্ব দেবে। প্রথম ম্যাচে রিশাদের বিষাক্ত স্পিনে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবিয়ানরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিরপুরকে ইতিহাসের পাতায় তুলেছে ড্যারেন স্যামির উইন্ডিজ। ম্যাচে ৫০ ওভারে স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে তারা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের পাতা ফাঁদেই কপাল পুড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২০৭ রান তুলেও রিশাদের বিষাক্ত স্পিনে বাংলাদেশ ৭৪ রানে জয় তুলে নেয়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ফের ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ বাংলাদেশ।
নয়ে নামা রিশাদ হোসেন শেষ দিকে ১৪ বলে তিনটি করে চারও ছক্কায় অপরাজিত ৩৯ রান করেন। ফলে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৩ রানে থামে। জবাবে নাটকীয় ভাবে সোহানের ক্যাচ মিচে ৯ উইকেটে ৫০ ওভারে ২১৩ রান তোলে। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও জয়ের সুযোগ এসেছিল! কিন্তু নিজেদের ভুলেই বাংলাদেশের হার। সুপার ওভারে ক্যারিবিয়ানদের ৩ রানে থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল। বাজে ফিল্ডিংয়ে ১ ওভারে ১ উইকেটে ১০ রান তোলে শাই হোপের দল। জাবাবে ১১ রানের লক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রিশাদকে ব্যাটিংয়ে না নামিয়ে সুযোগ দেওয়া হয় সাইফ-সৌম্য ও শান্তকে। যেখানে আকিলের এক ওভারে দুই ওয়াইট ও নো বল মিলে ৯ বলের সুপারও ভারে বাংলাদেশে হেরেছে ১ রানে।
এখন পর্যন্ত দুই দল ৪৯টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের জয় ২২ ম্যাচে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ২৪ ম্যাচে। সবশেষ ম্যাচ টাই হয় আর দুটিতে কোন রেজাল্ট আসেনি। আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করার জন্য র্যাঙ্কিংয়ে ন্যূনতম নয় নম্বরে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। সেজন্য অবশ্য তাদের হাতে যথেষ্ট ম্যাচ এবং সময় বাকি। এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই মেহেদী হাসান মিরাজদের সামনে র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগোনোর সুযোগ ছিল। ক্যারিবীয়রা সিরিজ ১-১ সমতা টানায় সেটি আর হচ্ছে না। রেটিং পয়েন্টে উইন্ডিজদের ছাড়িয়ে যেতে হলে ৩-০ ব্যবধানে জিততে হতো টাইগারদের।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স গ্রাফটা ছিল তলানিতে। সর্বশেষ ১২ ম্যাচে জয় স্রেফ একটি। ফলে জয় পেতে মরিয়া মিরাজ-তাসকিনদের পক্ষে কন্ডিশন প্রস্তুত করা হয় মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে। যেখানে কালো মাটির উইকেটে রাজ করছেন স্পিনাররা।
সিরিজ শুরুর আগে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ১০–এ থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৪। নয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৮০। কেবল ৩-০ ব্যবধানে জিতলেই বাংলাদেশ তাদের টপকাতে পারত, তখন মিরাজদের পয়েন্ট ৭৮ এবং উইন্ডিজদের পয়েন্ট কমে দাঁড়াত ৭৬–এ। ফলে ক্যারিবীয়দের ১০–এ নামিয়ে বাংলাদেশ উঠে যেত ৯ নম্বরে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে বাংলাদেশ সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে। এখন স্বাগতিকদের সামনে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের সুযোগ আছে। তেমনটা হলে মিরাজদের পয়েন্ট ৭৬ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের হবে ৭৯
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















