ম্যানচেস্টার ডার্বির উত্তাপ শেষ হলেও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন এক ইউনাইটেড সমর্থক। ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার জ্যাক গ্রিলিশকে চড় মারার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আলফি হোল্ট নামের এক যুবক।
ম্যানচেস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে শুনানিতে ২০ বছর বয়সী হোল্ট স্বীকার করেন, গত ৬ এপ্রিল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ডার্বির পর গ্রিলিশকে চড় মেরেছিলেন তিনি। হোল্ট জানান, গ্রিলিশ তাকে ‘অশোভন শব্দ ব্যবহার করে অপমান’ করেছিলেন, সেজন্যই তিনি প্রতিক্রিয়ায় চড় মেরেছিলেন।
শুনানিতে জানা যায়, হোল্ট স্ট্রেটফোর্ড এন্ডের নিয়মিত সিজন টিকিট হোল্ডার ছিলেন। তাকে তিন বছরের ফুটবল ব্যানিং অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং ১২০ ইউরো জরিমানা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতে হোল্ট বলেন, “আমি কখনোই ভাবিনি গ্রিলিশ এমন কথা বলবে। আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন আমি অনুতপ্ত।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাজিয়া আসলাম জানান, ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকরা উচ্চস্বরে গালাগালি করছিলেন। সেই সময় হোল্ট মাঠের একদম কাছে দাঁড়িয়ে সিটি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বাজে মন্তব্য করছিলেন। গ্রিলিশ কিছু শুনে তার দিকে ফিরে আসেন এবং কথা-কাটাকাটি হয়। পরে গ্রিলিশ হাঁটতে শুরু করলে হোল্ট তাকে চড় মারেন।
গ্রিলিশ পুলিশকে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, ভিড়ের আওয়াজে তিনি হোল্ট কী বলছিলেন শুনতে পাননি। কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরে বুঝতে না পেরে হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন, তখন হোল্ট তাকে চড় মারেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হোল্ট জানান, ম্যাচের আগে মদ্যপান করেছিলেন এবং বাবার সঙ্গে খেলা দেখতে যান। মাঠে সিটি খেলোয়াড়দের নিয়ে কটূক্তি করছিলেন, বিশেষ করে ফিল ফোডেনের উদ্দেশ্যে। পরে গ্রিলিশ প্রতিক্রিয়া দিলে দুজনের মধ্যে কথার লড়াই হয় এবং হোল্ট উত্তেজনায় গ্রিলিশকে চড় মারেন। আদালতে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়, যেখানে শব্দ না থাকলেও ঘটনার মুহূর্তটি দেখা যায়।
হোল্টের পক্ষের আইনজীবী মেলানি উইনস্ট্যানলি জানান, হোল্টের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তিনি ১২ বছর ধরে সিজন টিকিট হোল্ডার ছিলেন। ইতিমধ্যেই তার সিজন টিকিট বাতিল হওয়ায় বড় শাস্তি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক জিল হজেস বলেন, “আপনি দোষ স্বীকার করেছেন এবং অনুতপ্ত হয়েছেন, সেটা আমরা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু এমন আচরণের শাস্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
হোল্টকে ৮৫ ইউরো আদালতের খরচ এবং ৪৮ ইউরো অতিরিক্ত চার্জ (সারচার্জ) দিতে হবে। তার ব্যক্তিগত ভাতা থেকে অর্থ কেটে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তার বাবা-মা ২৮ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করবেন বলে জানান।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















