ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পর এবার এশিয়ায় নতুন ক্রিকেট ক্রিকেট পরাশক্তির উত্থান। যে দলটি হারাতে পারে এশিয়ার সেরা দলগুলোকে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে দলটি। হাতছানি দিচ্ছে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ!
এর মধ্য দিয়ে নেপাল ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন পরাশক্তির উত্থানের সুঘ্রাণ নিচ্ছে। উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে টি-টোয়েন্টির সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে অবিস্মরণীয় সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতল আইসিসির সহযোগী দেশ নেপাল। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নেপালের জয় ৯০ রানে।
১৭৩ রানের পুঁজি গড়ে ক্যারিবিয়ানদের স্রেফ ৮৩ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে যে কোনো সংস্করণে প্রথম জয়ের পথ ধরে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদও পেল এশিয়ার দেশটি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে সহযোগী দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডও গড়ল নেপাল।
২০১৬ সালে শারজাহতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ৮১ রানের জয় ছিল আগের রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গী হলো বিব্রতকর এক রেকর্ড। তাদের ৮৩ রান কোনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলের সর্বনিম্ন।
২০১৪ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৮৮ রান ছিল আগের সর্বনিম্ন। ভারতে টেস্ট সিরিজের কারণে ক্যারিবিয়ানদের নিয়মিত অধিনায়ক শেই হোপসহ তারকা ক্রিকেটারদের কয়েকজন খেলছেন না এই সিরিজে।
তারপরও নেপালের কৃতিত্ব কমছে না একটুও। দুই ম্যাচেই তারা জিতল পরিষ্কার ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচে ১৪৮ রানের পুঁজি নিয়ে ১৯ রানে জিতেছিল তারা। প্রথম ম্যাচের মতো এদিনও নেপালের ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। চমৎকার কয়েকটি ক্যাচ নিয়েছেন তাদের ফিল্ডাররা।
নেপালের পক্ষে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ বলে অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান আসিফ। পাঁচে নম্বরে নেমে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৯ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন জরা। এই দুজনের জুটিতে আসে ৬৬ বলে ১০০ রান। চতুর্থ উইকেটে নেপালের সর্বোচ্চ জুটি এটি।
আগের রেকর্ড জুটিতেও ছিলেন আসিফ। ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে রোহিত পাউড়েলের সঙ্গে ৯৯ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি। বল হাতে নেপালের সফলতম বোলার মোহাম্মাদ আদিল আলম। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে চার ওভারে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী পেসার।
লেগ স্পিনে ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন কুশাল ভুর্তেল। ম্যাচের শেষটা স্বপ্নের মতোই হয় নেপালের। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে নেপাল।
জবাবে নিয়মিত উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম পাঁচ ওভারে ক্যারিবিয়ানরা করতে পারে কেবল ৭ রান। প্রথম বাউন্ডারি পেতে তাদের লাগে ৩৪ বল! সর্বোচ্চ ২১ রান করতে পারেন হোল্ডার। ১৭.১ ওভঅরে ৮৩ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। একই মাঠে মঙ্গলবার হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















