এশিয়া কাপ ২০২৫ টি-টোয়েন্টি আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বোর্ডগুলোর মতানৈক্যের জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ২৪–২৫ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভা এজিএম।
এই অনিশ্চয়তা পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বর্তমানে এসিসির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি। এশিয়া কাপ থেকে প্রায় ১১৬ কোটি পাকিস্তানি রুপি আয়ের প্রত্যাশা করছিল পিসিবি, যা তাদের ৮৮০ কোটি রুপির বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ছাড়াও এশিয়া কাপের রাজস্ব পিসিবির অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর সংঘাতে জড়িয়ে যায় ভারত ও পাকিস্তান।
সংঘাত থামলেও দুই দেশের সম্পর্ক চরম অবনতি ঘটেছে। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ডাউনগ্রেড করে। যে ঘটনায় সাম্প্রতিক বৈরী সম্পর্কের কারণে আগস্টে বাংলাদেশে নির্ধারিত সফর স্থগিত করেছে ভারত।
এবার ঢাকায় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। তবে এসিসি সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি ঢাকায় সভা করা নিয়ে এখনও অনড়!
আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় এসিসির এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে পিসিবি ও বিসিসিআই কেউ তাদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েনি। ফলে বিড়ম্বনায় পড়েছে এজিএমের আয়োজক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি সাড়া না দেওয়ায় এজিএম বয়কটের হুমকি দিয়েছে বিসিসিআই। ভারতের মিডিয়ার দাবি ঢাকায় সভা করার বিপক্ষে অবস্থান নিতে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওমানের ক্রিকেট বোর্ডকেও নাকি রাজি করিয়েছে ভারত।
এজিএম আয়োজনের জন্য কোরাম পূর্ণ করতে ন্যূনতম তিনটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। এসিসির পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (টেস্ট খেলুড়ে) মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান।
এসিসির গঠনতন্ত্র অনুসারে- কমপক্ষে ১০টি পূর্ণ অথবা সহযোগী দেশ সভার কোরাম গঠনের জন্য উপস্থিত থাকতে হবে। আসন্ন এজিএমে সেই শর্ত পূরণ হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এসিসির এজিএম ভেন্যু নিয়ে নাটকীয়তার মাঝেই নাকি সভাপতি মহসিন নাকভি গত রোববার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সভায় অনুপস্থিত ছিলেন।
আইসিসির বর্তমান সভাপতি আবার বিসিসিআইয়ের সাবেক সচিব জয় শাহ। এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি প্রধান মহসিন নাকি আফগানিস্তান যেন ঢাকায় এজিএমে যোগ দেয় সেজন্য তাদের রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।
তবে আফগান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা ঢাকায় সফর না করা নিয়ে ভারতকে আশ্বস্ত করেছে বলে উল্লেখ করেছে ক্রিকবাজ।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ বিসিবির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ‘মনে হচ্ছে ঘটনাটি একটি ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। পিসিবি সভাপতির পক্ষ থেকে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব পাওয়ার পর বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আরও সতর্কভাবে বিষয়টি সামলাতে পারতেন।
এ বিষয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান ইফতেখার আহমেদ মিঠু খেলা লাইভকে সবশেষ বলেন,‘ এসিসির এজিএমে অংশ নিতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশের সদস্য ঢাকায় চলে এসেছে। এখন এজিএমের ভেনূ বাতিল বা পরিবর্তন হয়নি। তবে বিষয়টা নির্ভর করছে বিসিবির সভাপতির ওপর।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















