বাংলাদেশের দাবা ইতিহাসে এক অনন্য নাম গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। গত বছরের ৫ জুলাই হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে দাবা খেলতে খেলতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি। তার মৃত্যুর এক বছর পরও দেশের ক্রীড়াঙ্গন তাকে ভুলতে পারেনি। আর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ সংস্থাগুলো।
আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) দ্বিতীয় দফায় আরও ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছে জিয়ার পরিবারকে। বিওএ’র মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শেফাউল কবির জিয়ার স্ত্রী তাসমিন সুলতানা লাবণ্যর হাতে চেকটি তুলে দেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জিয়ার একমাত্র পুত্র, ফিদে মাস্টার তাহসিন তাজওয়ার জিয়াও। বিওএ দুই দফায় মোট ১০ লাখ টাকা দিয়েছে জিয়ার পরিবারকে।
তবে শুধু বিওএ নয়, দেশের অন্য শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও এসেছে সহায়তা। ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ব্যক্তিগতভাবে জিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ৫ লাখ টাকা দেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাহসিনের শিক্ষা ও খেলাধুলার জন্য দুই ধাপে মোট ২০ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছ থেকেও পাওয়া গেছে আরও ২ লাখ টাকা।
এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জিয়ার স্ত্রী তাসমিন লাবণ্য। তিনি বলেন, “সবাই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই টাকা তাহসিনের পড়াশোনা ও দাবা খেলার জন্য অনেক কাজে আসবে।”
তবে লাবণ্য আরও জানান, শুধু স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের পরিবারের জন্য স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশাও রয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা দেখেছি অনেক ক্রীড়াবিদ সরকার থেকে জমি, ফ্ল্যাট বা বড় অঙ্কের স্থায়ী সহায়তা পায়। জিয়া দেশের হয়ে এত কিছু করেছেন, এমন কোনো সহায়তা পেলে অন্তত তাহসিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটু নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।”
দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক দাবা অলিম্পিয়াড ও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা জিয়াউর রহমানের হঠাৎ মৃত্যু দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা। তবে তার রেখে যাওয়া পরিবারের পাশে ক্রীড়াঙ্গনের এই সহায়তা অনেকের কাছেই এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যা দেশের আগামির ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি সুন্দর বার্তা রেখে যাচ্ছে।
