কখনো তিনি ছিলেন বার্সেলোনার প্রাণ, কখনো আর্জেন্টিনার মুক্তিদাতা। এখন তিনি মেজর লিগ সকারের ইতিহাসের নির্মাতা। লিওনেল মেসি যেন থামতেই জানেন না। নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে বুধবার রাতে ২-১ গোলে ইন্টার মায়ামির জয় শুধু তিন পয়েন্টই নয়, একটা ইতিহাসেরও জন্ম।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করে মেসি হয়ে গেলেন এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার, যিনি টানা চার ম্যাচে একাধিক গোল করলেন। এমন কীর্তি শুধুই পরিসংখ্যান নয়, বরং তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি অনবদ্য অধ্যায়।
ম্যাচের ২৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের একটি ভুল হেড, যেটিকে আর পাঁচজন হয়তো উপেক্ষা করতেন কিন্তু মেসি সেটিকেই রূপ দিলেন সোনায়। হাফ-ভলিতে দুর্দান্ত ফিনিশিং করে গোলরেখা পার করালেন। এরপর ৩৮তম মিনিটে, বুস্কেটসের মাঝমাঠ থেকে পাঠানো নিখুঁত পাসে দৌড়ে এসে এক ছোঁয়ায় বল জালে পাঠানো। এ যেন পেইন্টিংয়ের মত নিখুঁত ফুটবল আর্ট।
এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫টি লিগ ম্যাচে মেসির গোল সংখ্যা ১৪। সঙ্গে ৭টি অ্যাসিস্ট। গোলদাতার তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, শীর্ষে রয়েছেন ন্যাশভিলের স্যাম সাররিজ (১৬ গোল)। কিন্তু পরিসংখ্যানই শুধু নয়, যেভাবে তিনি খেলেন, যে ধরণের শৈল্পিক ছোঁয়ায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেন, সেই সৌন্দর্যই তাকে করে তোলে অনন্য। এজন্য এম এল এসেও এমন চলছে মেসি বন্দনা
ইন্টার মিয়ামির জন্যও এটি একটি দুর্দান্ত জয়ের ধারা। দলটি টানা চারটি ম্যাচ জিতেছে এবং পাঁচ ম্যাচ ধরে অপরাজিত। অন্যদিকে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের খারাপ সময় যেন কাটছেই না। শেষ পাঁচ ম্যাচে জয়হীন তারা। যদিও ৭৯তম মিনিটে কার্লেস গিল একটি গোল ফিরিয়ে দেন, তবে সেটি ছিল শুধুই একটি সান্ত্বনা। মায়ামির গোলরক্ষক অস্কার উস্তারি এদিন ছিলেন দুর্দান্ত। পাঁচটি নিশ্চিত সুযোগ ঠেকিয়ে দলকে বাঁচিয়ে রাখেন। অন্যদিকে নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ইভাসিচের জন্য ছিল নিতান্তই মলিন এক রাত। মেসির সামনে যেন তিনি ছিলেন বেশ নিরুপায়।
মেসি যেন শুধুই গোল করেন না, তিনি যেন প্রতিবার বল পায়ে জাদু ছড়ান। মাঠে তিনি যেন একাই এক মহাকাব্য। এই মহাকাব্যের পরের অধ্যায়ের জন্য অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















