এশিয়া কাপে শেষ চারের অপেক্ষা বাড়ল বাংলাদেশের। হংকংকে হারিয়ে জয় দিয়ে মিশন শুরু করার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় স্কোর গড়তে পারেননি লিটন-তানজিদরা। শেষ বেলায় জাকের-শামীমের ব্যাটে ১৩৯ রানের সংগ্রহ পায় তারা। জবাবে ৩২ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা।
গতকাল শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ২ ওভারে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই বিদায় নেন দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমন। শেষদিকে দলের হাল ধরেন জাকের আলী ও শামীম হোসেন পাটওয়ারী। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের দুজনের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কুশল মেন্ডিসের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় ১৩ রান যোগ হতেই মোস্তাফিজের বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই ওপেনার। এরপর কামিল মিশারাকে নিয়ে বড় জুটি গড়েন পাথুম নিশাঙ্কা। শেখ মেহেদীর বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে শরিফুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে তাদের ৫২ বলে ৯৫ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ৫০ রান।
তবে এসময় এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন কামিল মিশারা। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। মাঝে অবশ্য কুশাল পেরেরা ও দাসুন শানাকার উইকেট হারায় লঙ্কানরা। ৯ বলে ৯ রান করে শেখ মেহেদীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন পেরেরা। ৩ বলে ১ রান শানাকা ফেরেন তানজিম সাকিবের বলে মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে। চারিথ আসালাঙ্কা অপরাজিত থাকেন ৪ বলে ১০ রানে। টাইগারদের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন শেখ মেহেদী। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন মোস্তাফিজ ও তানজিম সাকিব।
এর আগে আবু ধাবীর জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দুটি উইকেট হারায় শূন্য রানে। দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমনের বিদায়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। ইনিংসের প্রথম বলটাই অফ স্টাম্পের বাইরে ফুলটস দিয়ে বসেন নুয়ান থুসারা। তবে সে বল কোনো কাজে লাগাতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। পরপর ৫টি বলই ডট করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। শেষ বলটা বড় শট খেলতে গেলে তার স্টাম্প উড়ে যায়। কোনো রান যোগ করার আগেই সাজঘরের পথ ধরেন তানজিদ।
প্রথম ওভারে বাজে শুরুটা আরও দীর্ঘায়িত হয় দ্বিতীয় ওভারে। দুশমন্থ চামিরার এই ওভারের প্রথম তিন বল ডট খেলে চতুর্থ বলে উইকেরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম ২ ওভারে কোনো রান না করেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যাট করতে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন শেখ মেহেদী। ৭ বলে ৯ রান করা এই ব্যাটার ফিরেছেন হাসারাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে পড়ে।
অধিনায়ক লিটন দাস উইকেটে থিতু হয়েছিলেন বটে, তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। হাসারাঙ্গার বলে রিভার্স সুইফট করতে গিয়ে হয়েছেন ক্যাচ আউট। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ২৮ রান।
মাত্র ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন জাকের আলী অনিক ও শামীম হোসেন পাটওয়ারী। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেন এই দুই ব্যাটার। দুজনে মিলে যোগ করেন ৬১ বলে ৮৬ রান। জাকের অপরাজিত থাকেন ৩৪ বলে ৪১ রানে। আরেক প্রান্তে ৩৪ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন শামীম পাটওয়ারী। লঙ্কানদের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। এ ছাড়া নুয়ান থুসারা ও চামিরা নেন ১টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৯/৫
শ্রীলঙ্কা: ১৪.৪ ওভারে ১৪০/৪
শ্রীলঙ্কান ৬ উইকেটে জয়ী
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















