বাংলাদেশের শুটিং অঙ্গনের দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গঠিত হলো শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি। বুধবার (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) এনএসসি’র পক্ষ থেকে এই কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে।
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক বেগম আলেয়া ফেরদৌসী। আলেয়া ফেরদৌসী এক সময় বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে জনপ্রিয় এক নাম ছিলেন।
বিশেষ করে মা চরিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। যদিও বর্তমানে তিনি অভিনয়ে অনুপস্থিত, তবে ক্রীড়াঙ্গনে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন এবং শুটিং ফেডারেশনের উপ-মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার প্রথমবারের মতো তিনি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন।
নতুন কমিটিতে আরও রয়েছেন আবদুর রহমান, সরোয়ার হোসেন, ইমরান চৌধুরী, তৈমুর ফারুক মুন্না, ইউসুফ মোহসীন, সিরাজুল ইসলাম বাবু, শাহেদ আহমেদ, মিটি দেওয়ান ও দাইয়ান নাফিসসহ মোট ১৬ জন সদস্য। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিকেএসপির একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে এই কমিটিতে।
দেশে ক্রীড়াঙ্গনে সংস্কারের অংশ হিসেবে একের পর এক ক্রীড়া ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে আসছে সরকার। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৪৭টি ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু শুধুমাত্র শুটিং ফেডারেশনের কমিটি ঘোষণা পিছিয়ে যায়।
এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের সময় শুটিং ফেডারেশনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সে সময় ক্রীড়া উপদেষ্টা ও আন্দোলনের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং কমিটি ঘোষণায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যথাযথ পর্যবেক্ষণ শেষে সঠিক সময়েই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। অবশেষে আড়াই মাস পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিল।
গত কয়েক বছর ধরেই দেশের শুটিং খেলাধুলা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতা কিংবা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দেখা যায়নি। ফলে শুটারদের মধ্যে হতাশা কাজ করছিল। নতুন এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ক্রীড়ামনস্ক নেতাদের নেতৃত্বে এবার শুটিং ফেডারেশন ঘুরে দাঁড়াবে। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন, প্রশিক্ষণ পুনরায় শুরু, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণসহ বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন করে প্রাণ পাবে বাংলাদেশের শুটিং খেলাধুলা।
