এভাবেও ভেঙে পড়া যায়! এভাবেও স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়া যায়! মাত্র ১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আইসিসি নারী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য হার। বজ্রপাতের মতোই ৬ উইকেট হাতে রেখে ১২ বলে ১২ রানের সমীকরণটা হয়ে গেল শেষ ২ বলে ৯ রান। তবে বাংলাদেশ করতে পেরেছে কেবল এক রান। ৭ রানের এই হারে সেমির স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের।
কাল মুম্বাইয়ে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ ওভার ৪ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে শ্রীলঙ্কার নারীরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেছেন পেরেরা। বাংলাদেশের হয়ে ২৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করেছেন স্বর্ণা আক্তার। জবাবে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। ৫ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। আরেক ওপেনার ফারজানা হক দেখে-শোনে খেলেও সুবিধা করতে পারেননি। উল্টো বেশ কিছু ডট বল খেলেছেন। ৩৫ বলে ৭ রান করে আউট হয়েছেন তিনি
এরপর চারে নেমে দ্রুতই ফিরেছেন সুবহানা মুস্তারিও। ১৩ বলে ৮ রান করেছেন তিনি। তাতে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলের হাল ধরেন নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। ৬৪ রান করে সুপ্তা চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন। পরে স্বর্ণাকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই লড়াই করছিলেন জ্যোতি। তবে ১৯ রান করে স্বর্ণা ফিরলে ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে। রিতু-রাবেয়াদের কেউই সুবিধা করতে পারেননি। জ্যোতি শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৭৭ রান।
এর আগে বাঁচা মরার ম্যাচে নতুন বলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে মারুফা। ইনিংসের প্রথম বলেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন এই পেসার। তার গতি আর সুইয়ে পরাস্ত হয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ভিষমি গুনারত্নে। শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিয়েছেন আতাপাত্তু ও পেরেরা। তারা দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৭২ রান। ৪৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন লঙ্কান অধিনায়ক।
এক প্রান্ত আগলে রেখে এই ব্যাটার ৮৫ রান করলেও আরেক প্রান্তে কেউই যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। তাতে কোনোরকমে দুইশ ছুঁয়ে অলআউট হয় দল। বাংলাদেশের হয়ে ২৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন স্বর্ণা। এ ছাড়া ৩৯ রানের খরচায় ২ উইকেট পেয়েছেন রাবেয়া খান।
