বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী পরশু, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এই সভাকে ঘিরে সব ফেডারেশনই প্রস্তুতি নিয়েছে। অলিম্পিক ডিসিপ্লিনভুক্ত ২৪টি ফেডারেশন থেকে দুইজন করে এবং নন-অলিম্পিক তিনটি ফেডারেশন থেকে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে কাউন্সিলর হিসেবে। তবে এই তালিকায় ব্যতিক্রম বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
প্রকাশিত কাউন্সিলর তালিকায় বাফুফের নাম থাকলেও, প্রতিনিধির ঘর ফাঁকা। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া অঙ্গনে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিওএ’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবিএম শেফাউল কবীর বলেছেন, ‘বিওএ নির্দেশনা অনুসারে নাম প্রেরণ করলে আমরা গ্রহণ করব।’
বিওএ’র নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেশনগুলোকে নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কাউন্সিলরের নাম পাঠাতে হয়। তবে বাফুফে সম্প্রতি কোনো নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করেনি এবং আগামী দিনগুলোতেও এমন কোনো সভার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বাফুফে এবারের এজিএমে কাউকে প্রতিনিধিত্ব দিতে চায় না। তাদের পরিকল্পনা হলো, আসন্ন বিওএ নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রক্রিয়ার সময় প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়া।
এই সিদ্ধান্তে ক্রীড়াঙ্গনে হতাশা ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। কারণ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার ফেডারেশনের এমন অনুপস্থিতি অলিম্পিক কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, এবারের তালিকায় আকর্ষণীয় সংযোজন হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট নন-অলিম্পিক ডিসিপ্লিন হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখন তা অলিম্পিক ডিসিপ্লিনের মর্যাদা পেয়েছে। সেই অনুযায়ী বিসিবির পক্ষ থেকে দুইজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন— সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সহ-সভাপতি নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
এবারের কাউন্সিলর তালিকায় মোট ৮২ জন স্থান পেয়েছেন। বিওএ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দুইজন অলিম্পিয়ানকে কাউন্সিলর হিসেবে রাখার বিধান থাকলেও তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানা হয়নি। এবার সেই বিধান মেনে স্প্রিন্টার শিরিন আক্তার এবং শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকীকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাথলেট কমিশনের পক্ষ থেকে সাবেক অ্যাথলেট ফরহাদ জেসমিন লিটি এবং গলফার সিদ্দিকুর রহমান কাউন্সিলর মনোনীত হয়েছেন।
বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্য থেকে ঢাকা, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিনিধির নাম পাঠালেও বাকি পাঁচ বিভাগ থেকে কেউই নাম পাঠায়নি। উল্লেখযোগ্য যে, কিছু বিভাগে এখনো স্বীকৃত কমিটি নেই।
বিওএ সভাপতির কোটায় কাউন্সিলর হয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ সানাউল হক, জোবায়েদুর রহমান এবং মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ। এর মধ্যে রানা ও ইমরোজ ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের দায়িত্বে থাকা বিওএ কমিটিতে ভূমিকা রেখেছেন।
পেট্রোন কোটায় মনোনয়ন পেয়েছেন আরচ্যারি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল, টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু, সাখওয়াত হোসেন ও মোখলেসুর রহমান। শেষের দুইজন ক্রীড়াঙ্গনে অপেক্ষাকৃত অপরিচিত মুখ।
এছাড়া, ইমিডিয়েট পাস্ট সেক্রেটারি জেনারেল কোটায় এবার প্রতিনিধি হয়েছেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ, যিনি সৈয়দ শাহেদ রেজার আগের মহাসচিব ছিলেন। আগের কয়েকটি এজিএমে এই পদে ছিলেন বর্তমান মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা।
বাফুফের এজিএম বর্জনের সিদ্ধান্ত একদিকে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা নির্দেশ করে, অন্যদিকে বিওএ’র সঙ্গে সম্পর্কেও নতুন করে প্রশ্ন তোলে। ক্রীড়া মহল এখন অপেক্ষায় আছে— নির্বাচনের সময় বাফুফে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটি দেখার।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















