নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত লড়াই করেও নিগার সুলতানা জ্যোতির দল হার মানে ৪ উইকেটে। ইংলিশদের বিপক্ষে ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। সেই সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই। কিন্তু অভিজ্ঞ ব্যাটার হিদার নাইট একাই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন। ১১১ বলে ৭৯ রানের হার না মানা ইনিংসে তিনি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
তবে ম্যাচের পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ব্যাট হাতে ঝড় তোলা নয়, বরং হিদার নাইটকে ঘিরে তৈরি হওয়া দুটি বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত। একবার এলবিডব্লিউ এবং আরেকবার ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত রিভিউতে বদলে দেন তৃতীয় আম্পায়ার গায়ত্রি ভেনুগোপাল। ভিডিও রিপ্লেতে স্পষ্ট প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তিনি অনফিল্ড আম্পায়ারের আউট সিদ্ধান্ত দু’বারই পরিবর্তন করেন। এই দুই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সম্ভাব্য জয় কেড়ে নেয় বলে মনে করছেন সমর্থক ও ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
ম্যাচ শেষে নিজের ভাগ্য নিয়েই মন্তব্য করেন হিদার নাইট, “তিনবার আউট হতে পারতাম আজকে। কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম মনে হয়। তবে ভাগ্য পক্ষে থাকাটাও আমি ডিজার্ভ করি।”
১৫তম ওভারে ঘটে দ্বিতীয় বিতর্কিত ঘটনাটি। ফাহিমা খাতুনের বলে কভার অঞ্চলে খেলে ফেলেন নাইট, সামনের দিকে ঝুঁকে স্বর্ণা আক্তার তালুবন্দী করেন বলটি। আউট ধরে নিয়ে নাইটও ক্রিজ ছাড়েন। কিন্তু অনফিল্ড আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পাঠান তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে, এবং গায়ত্রি ভেনুগোপাল রিপ্লে দেখে ঘোষণা দেন—নট আউট। এই সিদ্ধান্তে হতবাক হন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। নাইট পরে বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম আমি আউট। ক্যাচটি পরিষ্কার মনে হয়েছিল। কিন্তু টিভি আম্পায়ার ভিন্ন সিদ্ধান্ত জানালেন।”
মারুফা আক্তারের বোলিং নিয়েও প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। নাইট বলেন, “সে (মারুফা) দারুণ বোলার। এমন লেট সুইং পাওয়া খুবই বিরল। ওর বলগুলো সামলানো কঠিন ছিল।”
তবে টাইগ্রেস শিবিরে ছিল হতাশার সুর। স্পিনার ফাহিমা খাতুন বলেন, “আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে নাইট আউট ছিল। সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার পর মনটা খারাপ হয়ে যায়। ওর উইকেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটা গেলে ম্যাচের চিত্রটা হয়তো পুরোই বদলে যেত।”
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















