ইউরো বাছাই : নাটকীয় ড্রয়ে চূড়ান্ত পর্বে হাঙ্গেরি

এক ম্যাচ হাতে রেখে নাটকীয় ড্রতে ইউরো ২০২৪ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে হাঙ্গেরি। বৃহষ্পতিবার ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে অ্যাওয়েতে বুলগেরিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা। নিশ্চিত হারের ম্যাচে ৯৭ মিনিটে আত্মঘাতি গোলে ড্র করে হাঙ্গেরি। এ ম্যাচের এক পয়েন্ট তাদেরকে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে দিয়েছে।

এক সময় বিশ্ব ফুটবলের শক্তিশালী দল বুলগেরিয়া অবস্থা বেশ নাজুক। মাঠে যেমন, মাঠের বাইরেও তাদের নাজুক অবস্থা। বাছাই পর্বে পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে অবস্থান তাদের। ম্যাচকে ঘিরে ছিল ব্যাপক মারামারি। তবে মাঠে নয়, মাঠের বাইরে।

জাতীয় ফুটবল দলের বাজে অবস্থার জন্য দর্শকেরা বুলগেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে দায়ী করে চলেছে। ফেডারেশনের প্রতি ক্ষিপ্ত ফুটবল ভক্তরা। বাজে পরিস্থিতি এড়াতে এ ম্যাচটি দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজন করেছিল ফেডারেশন। ফলে মাঠের বাইরে ছিল হাজার হাজার দর্শক। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

গত দুই দশক ধরে বুলগেরিয়ার ফুটবল দল কোনো বড় ধরণের টুর্নােমেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এক প্রীতি ম্যাচে আলবনিয়ার কাছে এবং বাছাই পর্বে লিথুনিয়ার কাছে হারের পর ফুটবলপ্রেমীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা বিক্ষোভ করে, দেশব্যাপী প্রতিবাদের আয়োজন করে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্ধ দর্শকেরা ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করে।

ম্যাচে খেলার শুরুতেই হাঙ্গেরি গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল। ডোমিনিক সোবোসলাইয়ের ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বলে মার্টিন অ্যাডাম হেড করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১০ মিনিট।

মার্কো রসি ব্যবান দ্বিগুন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি, বরং ম্যাচে বুলগেরিয়ার পাওয়া প্রথম সুযোগটি কাজে লাগিয়ে খেলায় সমতায় ফেরান স্প্যাস ডেলেভ।

স্বাগতিক দল বিরতির আগে বড় ধরণের এক ধাক্কা থেকে রক্ষা পায় ভিএআর ব্যবহারের সুবাদে। মারাত্মক ফাউলের কারণে প্রায় একই সঙ্গে ভ্যালেন্টিন অ্যান্টভ ও ইলিয়া গ্রুয়েভ একই সঙ্গে লাল কার্ড দেখেছিলেন। তবে ভিএআর দেখে রেফারি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। একটা লাল কার্ডের হাত থেকে বুলগেরিয়া রক্ষা পায়। এতে করে বুলগেরিয়ার সম্ভাবনা বেঁচে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হাঙ্গেরিও লাল কার্ডের খড়ায় পড়ে। ফলে খেলোয়াড় সংখ্যায় সমতা ফেরে। এরই মধ্যে ৭৮ মিনিটে কিরিল ডেসপোডভ পেনাল্টি থেকে গোল করে বুলগেরিয়াকে এগিয়ে নেন। এ গোলের সঙ্গে সঙ্গে এ বছরে হাঙ্গেরির প্রথম হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু আত্মঘাতি গোল হাঙ্গেরিকে হার থেকে রক্ষা করে। ইনজুরি সময়ের সপ্তম মিনিটে পেটকভের হেড নিজেদের জালে জড়িয়ে গেলে হাঙ্গেরি মূল্যবান পয়েন্ট পায়। একই সঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো তাদের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা নিশ্চিত হয়।

Exit mobile version