এটা আমার কাজ, আমাকে করতে হবে-রিশাদ

এটা আমার কাজ, আমাকে করতে হবে-রিশাদ

বল হাতে রিশাদের চমক

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০৭ রানে গুটিয়ে গিয়েও ৭৪ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের পেছনে বড় অবদান স্পিনার রিশাদ হোসেনের। এই লেগ স্পিনার একাই নেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশের দুটি অপূর্ণতা এক ম্যাচেই ঘুচিয়ে দিলেন রিশাদ হোসেন। ক্রিকেট ইতিহাসের অনেক কিংবদন্তি বোলারও ওয়ানডে ক্যারিয়ারে কখনও ৬ উইকেটের স্বাদ পাননি। এমন কীর্তি নিয়ে রিশাদের প্রতিক্রিয়া, ‘আলহামদুলিল্লাহ… আল্লাহ দিয়েছেন…।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলন জুড়ে দেখা গেল এই ধরনের কথারই পুনরাবৃত্তি। বল হাতে যেমন আনন্দদায়ী ও সপ্রতিভ রিশাদ, ব্যাট যাতে যতটা কার্যকর, মাইক্রোফোন-রেকর্ডারের সামনে ততটা স্বতস্ফূর্ত নন তিনি কখনোই। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা দিনটিকেও তাকে দেখা গেল সেই চেহারায়। রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে অনন্য কীর্তি গড়ার দিনেও ২৩ বছর বয়সী লেগ স্পিনার যেন একদমই নির্লিপ্ত। উচ্ছ্বাসের জোয়ার বা আবেগের খুব প্রকাশ দেখা গেল না তার কথায় বা কাজে।

ব্যাটিং প্রতিকূল উইকেটে তার ১৩ বলে ২৬ রানের ইনিংস শেষ দিকে দলের জন্য ছিল মহামূল্য। এরপর আসল কাজ বোলিংয়েও তিনি জ্বলে ওঠেন দারুণভাবে। তবে রিশাদ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে তিনি নিয়মিত মুখ। ম্যাচ খেলে ফেলেছেন এই সংস্করণে ৫০টি। কিন্তু ওয়ানডে দলে এখনও ঠিক নিয়মিত নন। এই ম্যাচের আগে অভিজ্ঞতা ছিল স্রেফ ১১ ম্যাচের।

কোনো ম্যাচে দুই উইকেটের বেশি পাননি। সেই তিনিই নিজেকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের সব স্পিনারকে ছাড়িয়ে স্বাদ পেলেন ৬ উইকেটের। ব্যাটে-বলে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখিয়েও বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে না তার কাছে। ‘তেমন কিছু বলার নেই। এটা আমার কাজ, আমাকে করতে হবে। আমি চেষ্টা করেছি সেরাটা দিতে। এটা নরম্যাল, আমার কাজ।’

তবে মিরপুরের টার্নিং উইকেটে এই ম্যাচে তাকে গুগলি করতে হয়নি বা করার তেমন প্রয়োজনীয়তা হয়তো ছিল না এ দিন। তবে সম্প্রতি এশিয়া কাপে ও পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তাকে দারুণ কয়েকটি গুগলি করতে দেখা গেছে। গুগলি ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলে নিশ্চিতভাবেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবেন তিনি।

Exit mobile version