মোহাম্মদ আশরাফুলের পর দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে ঝড়ে গেল আরও একটি নক্ষত্র। আবুধাবি টি-টেন লিগে খেলতে গিয়ে আইফোন উপহার নিয়ে আইসিসির শাস্তির মুখোমুখি অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। আগামী দুই বছরের জন্য তাকে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে আইসিসি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দ্বিতীয় আসর ২০১৩ সালে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিসিবির দুর্নীতির দমন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ক্রিকেটে ফিরলেও আর জাতীয় দলে ফেরা হয়নি। মোহাম্মদ আশরাফুলের পর দুর্নীতির এবার দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন আরও এক তারকা ক্রিকেটার। অথচ এক বছর আগেও তিনি ছিলেন বিপিএল সেরা তারা।
লোভে পড়ে এক বছরের মধ্যে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ দেখে ফেলেছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। অথচ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আগের আসরে ছিলেন অধিনায়ক। সেই নাসির এবার প্লেয়ার্স ড্রাফটে জায়গা পাননি। মূলত আবুধাবির টি-টেন লিগে খেলতে গিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন নাসির। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৭৫০ ডলারের বেশি অর্থমূল্যের উপহার নিয়েছেন এবং তা আমিরাত বোর্ডের দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হন।
এরপর বিসিবির জানায়, আইসিসি ক্লিয়ার না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নাসির আর খেলতে পারবে না। সেই ঘটনায় এবার সব ধরনের ক্রিকেটে দুই বছর নিষিদ্ধ হলেন ফিনিশারখ্যাত এই অলরাউন্ডার। তবে আইসিসির দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করতে পারলে আগামী ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল আবার ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন তিনি। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
নাসিরের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমনবিধি লঙ্ঘনের তিনটি অভিযোগ আনা হয়। তার সবই স্বীকার করে নিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। একটি আইফোন ১২ উপহার নিয়েছিলেন নাসির। আইসিসির কোডের ধারা ২.৪.৩ অনুযায়ী, মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার কাছে বিলম্ব না করে সেই উপহারের রসিদ দেখাতে ব্যর্থ হন। যার মূল্য ৭৫০ ডলারেরও বেশি ছিল।
কোডের ধারা ২.৪.৪ অনুযায়ী নতুন আইফোন ১২-এর মাধ্যমে দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন তার বিশদ দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার কাছে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন নাসির। আর কোডের অনুচ্ছেদ ২.৪.৬ অনুযায়ী কোনো যুক্তি ছাড়াই দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার তদন্তে সহযোগিতা করতেও প্রত্যাখ্যান করেন।
মূলত আবুধাবির টি-টেন লিগে খেলতে গিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন নাসির। ৭৫০ ডলারের বেশি অর্থমূল্যের উপহার নিলেও তা আমিরাত বোর্ডের দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত সেপ্টেম্বরেই ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে তাকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার আইসিসি থেকেও শাস্তি পেলেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১১৫টি ম্যাচ খেলেছেন নাসির। এ সময়ে দুই হাজার ৬৯৫ রান ও ৩৯টি উইকেট নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। এরপর জাতীয় দল বাদ পড়লে মূলত ঘরোয়া ক্রিকেটেই খেলতেন তিনি। দুই বছর নিষদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের মতো নাসিরের ক্যারিয়ারও এখানেই সমাপ্ত হচ্ছে বলে ধরে নেয়া যায়।
