বিশ্বকাপে রাউন্ড রবিন লিগে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। উভয় দলের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া শুরুর দুই ম্যাচ হেরে সামনের পথটা কঠিন করে তুলেছে। তিন ম্যাচ মাত্র একটা জয় পাওয়ায় সেমিফাইনালের প্রথম প্রশস্ত করতে তাদের জয় দরকার। অন্যদিকে পাকিস্তান প্রথম দুই ম্যাচ জিতলেও শেষ ম্যাচ ভারতের কাছে হেরে যায়। ফলে সেমিফাইনালে দৌড়ে এগিয়ে থাকতে তাদেরও জয় প্রয়োজন।
চমৎকার এক ব্যাটিং লাইন নিয়ে পাকিস্তান বিশ্বকাপ মিশনে নেমেছে। দলে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম উল হক, বাবর আজম ও আব্দুল্লাহ শফিকের মতো ব্যাটার। বাবর আজম দলের তো বটেই ওয়ানডে র্যাংকিংয়েও সেরা ব্যাটার। কিন্তু বিশ্বকাপে তিনি ছন্দে নেই। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হলেও তৃতীয় ম্যাচে রানে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রিজওয়ান দারুণ ছন্দে। আব্দুল্লাহ শফিক তো অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে আস্থার জবাবে দিয়েছেন।
বিশ্বকাপের আগে বোলিং পাকিস্তানকে আশা দেখাচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের আগেই তাদের সেনসেশন নাসিম শাহ ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে দল থেকে ছিটকে যান। শাহিন শাহ আফ্রিদি ঠিক ছন্দ পাচ্ছেন না। ফলে হাসান আলীকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে। হঠাৎ করে সুযোগ পাওয়া হাসান আলীই এখন দলের প্রধান উইকেট শিকারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে বেশ ভোগাচ্ছে। ব্যাটাররা যেনো ব্যাটিং ভুলে গেছে। ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১৯৯ রানে অল আউট হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অজি ব্যাটারদের অবস্থা আরো নাজুক। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩১১ রানের জবাবে মাত্র ১৭৭ রানে সব উইকেট হারিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচেও তাদের ব্যাটিং সুবিধার হয়নি। শ্রীলঙ্কার ২০৯ রান টপকাতেই ৫ উইকেট হারিয়েছিল তারা। বিষ্ময়কর বিষয় তিন ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ৫৮।
বল হাতেও অস্ট্রেলিয়ান বোলাররাও সুবিধা করতে পারছেন না। শেষ ম্যাচ অ্যাডাম জাম্পা অবশ্য ৪ উইকেট পেয়েছেন। কিন্তু এ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়ন হলেও বিশ্বকাপে তাদের অবস্থা বেশ নাজুক। এখনো এক ম্যাচেও জয়ের দেখা পায়নি তারা। ভারতের বিপক্ষে অবশ্য জস হ্যাজেলউড ৩ উইকেট পেয়েছিলেন। তবে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না।
