ফুটবল খেলায় মেয়ের আগ্রহ মানতে পারেননি বাবা লিটন আলী। খেলার কারণে মেয়ের সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। তার ওপর ছিল গ্রামের মানুষের কটু কথা। তবে সব প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে নিজের স্বপ্নে অটুট ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রামের ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকা। সেই দৃঢ়তা ও পরিশ্রমের ফল মিলেছে অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। টুর্নামেন্টে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন এই তরুণী।
সিনিয়র সাফ জয়ের পর বয়সভিত্তিক সাফেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে সাগরিকা বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দটাই আলাদা। অপরাজিত থেকে ট্রফি জিততে পারায় ভালো লাগা আরও বেড়েছে।’
অলিখিত ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলেও উদযাপন না করায় আক্ষেপ নেই সাগরিকার। বরং এই ম্যাচেই যেন নতুন উপলব্ধি এসেছে, ‘আমাদের স্ট্রাইকারদের মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। সেটি পারলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করা সম্ভব।’
এই নেপালের বিপক্ষেই আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ছিলেন সাগরিকা। দীর্ঘ বিরতিতে মাঠের বাইরে থাকা তাকে আরও দৃঢ় করেছে, ‘তিনটি ম্যাচ খেলতে না পারায় আমার মধ্যে জেদ চলে আসে। মনে মনে পণ করেছিলাম, সুযোগ পেলে কাজে লাগাব। পেয়েছি এবং কাজে লাগাতে পেরেছি। দেশকে কিছু দিতে পারছি, এটা আমার জন্য বড় অর্জন।’
অঘোষিত এই ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ৪ গোল। তবে গোলের পর তাকে সেভাবে উদযাপন করতে দেখা যায়নি। কারণ জানিয়ে সাগরিকা বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি দুর্ঘটনা (মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত) ঘটেছিল। এতে অনেক ছোট বাচ্চা মারা গেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। এ কারণেই আমরা তেমন উদযাপন করিনি। এমনকি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফির সঙ্গে ছবিও তুলি না। সবাই শান্ত ছিলাম, সোজা মাঠ থেকে হোটেলে ফিরে গেছি।’
টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ খেলে ৮ গোল করলেও সিনিয়র দলে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার বিষয়ে সাগরিকা বলেন, ‘আমি কেমন পারফর্ম করছি তা কোচ ভালো জানেন। কোচ যদি মনে করেন আমাকে একাদশে রাখা উচিত, তাহলে আমি আত্মবিশ্বাসী যে ভালো কিছু করতে পারব। আপুদের মতো এখনও খেলতে পারি না, তবে চেষ্টা করছি। তার চেয়ে ভালো খেলতে পারলে নিশ্চয় একদিন শুরুর একাদশে জায়গা পাব।’
দলে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও ইতিবাচক সাগরিকা। জানান, ‘আমি যে তিন ম্যাচ খেলিনি, সেই ম্যাচগুলোতে আমার জায়গায় তৃষ্ণা খেলেছে এবং ভালো করেছে। প্রতিটি পজিশনে যদি একাধিক ফুটবলার থাকে, তাহলে সবার মধ্যে জেদ কাজ করে। তখন সবাই চেষ্টা করে আরও ভালো করতে। আমরা এক হয়ে লড়াই করতে চাই।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















