তাদের অধিকার আছে আমাদের অপমান করার-নেইমার

ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বাজে দিন দেখে কান্নায় মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। অবশ্য চোট পেয়ে ক্যারিয়ারের নানা সময়ে কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছেড়েতে হয়েছে নেইমারকে। এবারও তার চোখে দেখা গেল পানি।

তবে এবার চোটের কারণে নয়, বড় পরাজয়ের ব্যথায়! ক্যারিয়ারের জঘন্যতম হারের পর ব্রাজিলিয়ান তারকার হৃদয়ের ক্ষত যেমন চোখের জল হয়ে ঝরল, তেমনি ফুটে উঠল তার কণ্ঠেও। আবেগের বিস্ফোরণে বললেন, এমন কিছুর অভিজ্ঞতা তার আগে হয়নি।

এবারের লিগে ভাস্কো দা গামা ক্লাবও ধুঁকছিল। এই ম্যাচের আগে ১৭ ম্যাচে স্রেফ ৪ জয়ে তাদের পয়েন্ট ছিল ১৬। সেই দলের কাছেই বিধ্বস্ত হলো সান্তোস। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষেও ধারণা করা যায়নি সান্তোসের এমন পরিণতি। ভাস্কো দা গামা তখন এগিয়ে ছিল কেবল ১-০ গোলে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্য এক তাণ্ডবে ৫২ থেকে ৬৮ মিনিটের মধ্যে আরও ৫টি গোল করে বসে তারা। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠেই ভাস্কো দা গামার কাছে হেরে যায় ৬-০ গোলে। নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে পরাজয় এটি। ৩৩ বছর বয়সী উইঙ্গার গত মাসেই ফিরেছেন তার শৈশবের ক্লাবে।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় নুয়ে পড়দে দেখা যায় সান্তোসের ফুটবলারদের। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে দুয়ো। ভাস্কোর সমর্থেকরা তখন গলা ফাটিয়ে গান ধরেছেন আনন্দে। ঠিক তখন অপমানে নেইমার মাঠেই বসে পড়েন। হাঁটুতে হাত রেখে মুখ গুঁজে কাঁদলেন তিনি।

সতীর্থদের কেউ কেউ এসে চেষ্টা করলেন তাকে সান্ত্বনা দিতে ও টেনে তুলতে। কিন্তু ঝটকায় তাদেরকে সরিয়ে দিলেন তিনি। কৌতিনিয়োসহ প্রতিপক্ষের দু-একজন এসেও তাকে সান্ত্বনা দেন। পরে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেন ৩৩ বছর বয়সী তারকা।

নেইমার বলেন,‘ আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্সে আমি পুরোপুরি হতাশ। সমর্থকদের সবটুকু অধিকার আছে প্রতিবাদ করার… অবশ্যই সেটি সহিংসতা ছাড়া। তবে তারা যদি অভিশাপ দিতে চায় ও অপমান করতে চায়, সেই অধিকার তাদের আছে। আমাদের তা প্রাপ্য।’

প্রচণ্ড লজ্জার অনুভূতি হচ্ছে। জীবনে এমন কিছুর অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি হয়ে গেছে। ওই কান্না ছিল রাগ থেকে… সবকিছুর কারণেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি তো সবকিছু করতে পারব না। তবে বাস্তবতা হলো, এটা ছিল চূড়ান্ত …..।’

Exit mobile version