বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে আগেই নির্বাচন আগেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপি পন্থী ক্লাবগুলো। এরপর নির্বাচন পেছানোর দাবিতে তিন প্রস্তাব নিয়েও বিসিবির নির্বাচন থামাতে পারিন তারা।
বিসিবির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের প্রতিবাদে ফলাফল বাতিল চেয়ে দাবিতে লীগ বর্জনের ঘোষণা দেশের তিন বিভাগের ৩৮ ক্লাব, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ঢাকার একদম শীর্ষ ক্লাব। ক্লাবগুলোর অন্যতম সংগঠক মাসুদুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে তারা সব ধরনের ঘরোয়া লীগ বর্জন করছেন।
ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান ও ক্রীড়া সংগঠক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান এর মতো সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিসিবির নির্বাচনে অংশ নিলে জয় নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের। আজ বুধবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ক্লাব অর্গানাইজার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার লিগ, বিভাগীয় ও জেলার ক্রিকেটীয় কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এবারের বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তামিম ইকবার খান। তবে নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তৃতীয় বিভাগ বাছাই পেরিয়ে আসা ১৫টি ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ স্থগিতের প্রতিবাদে তামিমসহ মোট ১৬ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।
পরে আদালতের দারস্থ হয়ে কাউন্সিলরশিপ ফিরে পায় ১৫টি ক্লাব। এ ঘটনায় গত সোমবার বিসিবি নির্বাচনের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি লেখেন, ‘ধৈর্য ধরলে’অনেকেই বিসিবি পরিচালক হতে পারতেন।
সেই ধৈর্য না ধরে নির্বাচনের ‘ট্রেন’ মিস করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি নিশ্চিত আমার বিষয়ে আপনাদের কমবেশি ধারণা আছে। আপনি সত্যিই মনে করেন ১৫টা ক্লাব থাকুক বা না থাকুক-আমি যদি নির্বাচনে দাঁড়াতাম, আমার জন্য কেউ ভোট করত না? তবে আমার জন্য বাস ধরা বা না ধরা কখনো বিকল্প ছিল না। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটা স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়া। এটাই ছিল আমার স্ট্যান্ড।’
বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তামিম আরও বলেন, ‘আমি আপনাকে এতটুকু গ্যারান্টি দিয়ে বললাম, আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়াতাম, আমার পক্ষে কোন টিম আছে, বিপক্ষে কোন টিম আছে…তারপরও আমি সহজেই পাস করতাম। এটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না। কারণ, আমি এটা বিশ্বাস করি, আমরা সবাই ক্রিকেটের স্বার্থে আছি।’
এ সময় বিসিবি নির্বাচন নিয়েও নানা অভিযোগের কথা জানান তামিম। ই–ব্যালটে বেশির ভাগ ভোট পড়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি,‘আমি মনে করি না এটা কোনো ইলেকশন ছিল। নির্বাচনে সবচেয়ে হাস্যকর যে বিষয়টা লেগেছে সেটা হলো ক্যাটাগরি ২–এ ৪২ ভোট পড়েছে, যার মধ্যে ৩৪টি ই-ভোট হয়েছে, যারা ই-ভোট দিয়েছে তাদেরকেও সেন্টারে দেখেছি। ’
তামিম আরও বলেন,‘ তাহলে কথা হলো তারা কেন ই-ভোট দিলো, ই-ভোট দেয়ার রুলস হলো যারা স্বশরীরে আসতে পারবে না তাদের জন্য, তাহলে এমন ভোটের মোটিভটা কী? আপনি ই-ভোটিং করছেন আবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেন্টারেই থাকছেন তাহলে ই-ভোট করার দরকার কী ছিলো?’
নির্বাচনের আগেই লিগ বর্জনের হুমকি দিয়ে রেখেছিল নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ক্লাব অর্গানাইজার অ্যাসোসিয়েশনের একটি পক্ষ। এবার তাঁরা জেলা-বিভাগেও ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। কাল বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর আমিনুল ইসলাম যদিও বলেছেন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করবেন তাঁরা।
তবে আমিনুলের আলোচনার প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করে ফের এই ঘোষণা দেওয়া হলো। ক্রিকেট বর্জন করলে তা ক্রিকেটারদের আর্থিক সংকটে ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তামিম বলেন, ‘এটা যাঁরা নির্বাচন করেছে তাঁদের চিন্তা করা উচিত ছিল।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















