বাংলাদেশকে ১৪৪ রানের টার্গেট দিল হংকং

বাংলাদেশকে ১৪৪ রানের টার্গেট দল হংক

হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। কাগজে-কলমে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিং করেন লিটন বাহিনী। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৯৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া হংকং কাল ব‍্যাটিংয়ে কিছুটা উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ উইকেটে থেমেছে ১৪৩ রানে।

একাদশে কাল তিন ফ্রন্টলাইন পেসার নিয়ে আঁটসাঁট বোলিং  করে টাইগাররা। তাতে অবশ্য খুব বেশি সুবিধা হয়নি। ভালো বোলিং করলেও উইকেট নিতে পারছিল না বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় বলেই রিভিউ নিতে হয়। কিন্তু অল্পের জন্য সফল হয়নি। আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান জিশান আলি। শেখ মেহেদির বলটি রিভার্স সুইপ করতে যান জিশান। কিন্তু ব্যাটে খেলতে পারেননি। বল ছোবল দেয় প্যাডে। সঙ্গে সঙ্গে জোরাল আবেদন করে বাংলাদেশ। তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। মেহেদীর সঙ্গে আলোচনার পর রিভিউ নেন লিটন কুমার দাস। তখন রিপ্লেতে দেখে যায়, বল ছোবল দিত স্টাম্পে। তবে ইমপ্যাক্ট আম্পায়ার্স কল হওয়ায় বহাল থাকে আম্পায়ারের পূর্বের সিদ্ধান্তই। জিসানের রান তখন ১!

তবে দ্বিতীয় ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এসেই প্রথম সাফল্য এনে দেন অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। রিভিউ নিয়ে আনশুমানকে ফেরায় বাংলাদেশ। সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাট চালান আনশুমান। কিন্তু ব্যাটে খেলতে পারেননি তিনি। বল লিটনের গ্লাভসে জমা পড়লে আবেদন করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন লিটন কুমার দাস। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল হালকা ছুঁয়ে গেছে আনশুমানের ব্যাট। সিদ্ধান্ত পাল্টান আম্পায়ার। আনশুমান ৫ বলে করেন ৪ রান। তবে ঐ ওভারে ২ চারে ১১ রান খরচ করেন তাসকিন।

এরপর জিশানকে ১ রানে ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। তানজিম সাকিবের বলে হৃদয়ের ব‍্যর্থতায় বেঁচে যান জিশান আলি। মিড অন থেকে আন্ডার আর্ম থ্রো ফিল্ডার স্টাম্পে রাখতে পারলেই রান আউট হয়ে যেতেন হংকং ওপেনার। এরপর অবশ্যকে বোল্ড করেন তানজিম হাসান। মিডল স্টাম্পে থাকা গতিময় ডেলিভারি লেগে খেলতে চেয়েছিলেন বাবর। সুইং করে অফ স্টাম্পে যাওয়া ডেলিভারির লাইনে যেতে পারেননি। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প।

সাজঘরে ফেরার আগে ১২ বলে এক ছক্কায় ১৪ রান করেন তিনি। ৪.৪ ওভারে হংকংয়ের রান তখন ২ উইকেটে ৩০। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট নেন বোলাররা। এরপর ওপেনার জিশান আলির সঙ্গে জুটি গড়ে হংকংকে এগিয়ে নেন নিজাকাত খান।

অবশেষে দলীয় ৭১ রানের মাথায় দুইবার জীবন পাওয়া জিশানকে ফেরান তানজিম। তানজিমের করা ১২তম ওভারে মোস্তাফিজের তালুবন্দি হন তিনি। বিদায় নেওয়ার আগে এই ওপেনার ৩৪ বলে ৩০ রান করেন। এবার নিজাকাত খানের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে নেমে শক্ত জুটি গড়েন অধিনায়ক ইয়াসিম মুর্তাজা। ভাঙে ৪১ বল স্থায়ী ৪১ রানের জুটি।

শেষ দিকে বোলিং আক্রমণে ফিরে উইকেট পেতে পারতেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। কিন্তু ইয়াসিম মুর্তাজার গতিময় ফিরতি ক‍্যাচ নিতে পারেননি এই লেগ স্পিনার। লাফিয়ে হাত ছোঁয়ালেও বল মুঠোয় নিতে পারেননি রিশাদ। বেঁচে যান মুর্তাজা। তখন হংকংয়ের অধিনায়কের রান ৪

তবে ১৮ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বল এক্সট্রা-কাভারে খেলতে গিয়ে রান আউট হন নিজাকাত খান। সরাসরি রিশাদ হোসেনের হাতে যাওয়ায় রানের কোনো সুযোগ ছিল না। তবুও ছুটেন মুর্তাজা। রিশাদের থ্রো ধরে অনায়াসে বেলস ফেলে দেন বোলার মুস্তাফিজ। ১৯ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৮ রান করেন মুর্তাজা। হংকংয়ের রান ৪ উইকেটে ১২৫।

এরপর জোড়া আঘাত হানেন রিশাদ। নিজের শেষ ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন তিনি। নিজাকাত খানের পর কিঞ্চিত শাহর উইকেট পান এই লেগ স্পিনার। বড় শটের চেষ্টায় তানজিদ হাসানের হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় নিজাকাতের লড়াই। ৪০ বলে এক ছক্কা ও দুই চারে ৪২ রান করেন নিজাকাত। পরের বলে স্লগ করার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হয়ে যান কিঞ্চিত। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান তিনি। ১৯ ওভারে হংকংয়ের রান ৬ উইকেটে ১৩৪।

 ইনিংসের শেষ ওভার করতে এসে আরেকটি উইকেট পেলেন তাসকিন আহমেদ। অভিজ্ঞ পেসারের বলে বড় শটের চেষ্টায় জাকির আলির হাতে ধরা পড়লেন আইজাজ খান। ১৯.২ ওভারে হংকংয়ের রান ৭ উইকেটে ১৩৬। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে হংকং। বল হাতে বাংলাদশের পক্ষে তাসকিন,তানজিম ও রিশাদ সমান দুটি করে উইকেট নেন।

Exit mobile version