বিশ্বকাপের আগেই টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানালেন মিচেল স্টার্ক । মূলত টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বললেন এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম পেসার। অন্যদিকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে মিচেল স্টার্কের ভাবনায় আগামী বছরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচি ও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
এই দুই সংস্করণকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের শরীরকে ঠিকঠাক রাখতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেস তারকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কাছাকাছি এসে এই সিদ্ধান্ত অনেককেই চমকে দিতে পারে। তবে স্টার্কের ক্যারিয়ার অনুসরণ করে থাকলে এটি খুব বিস্ময়কর নয়। আগেও নানা সময়ে টেস্ট ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিয়ে বা জাতীয় দলের জন্য নিজেকে চনমনে রাখতে বিশাল অর্থের হাতছানি উপেক্ষা করে আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বা নিলামে নাম দেননি।
৩৫ বছর বয়সী পেসার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এমনিতেও বেছে বেছে খেলছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। গত বছরের বিশ্বকাপের পর দেশের জার্সিতে তাকে আর দেখা যায়নি এই সংস্করণে। তার পরও টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম পেসার হিসেবে তিনি বিদায় নিচ্ছেন। ৬৫ ম্যাচে তার উইকেট ৭৯টি। তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পার (১০৩ ম্যাচে ১৩০ উইকেট)।
তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের গৌরবময় মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়। বিদায় বেলায় টেস্টকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে ওই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিও মনে করলেন স্টার্ক। তিনি বলেন,‘টেস্ট ক্রিকেট এখন ও সবসময়ই আমার কাছে ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যতদিন টি-টোয়েন্টি খেলেছি, প্রতিটি মিনিট উপভোগ করেছি আমি। বিশেষ করে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, শুধু সেখানে জিতেছিলাম বলেই নয়, বরং অবিশ্বাস্য যে দলটি ছিল এবং পুরো সময়টায় আমরা যেভাবে মজা করেছি।’
এদিকে আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ব্যস্ত থাকবে অ্যাশেজ নিয়ে, যেটিকে অনেক সময় বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকে পরের বছর পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে ঠাসা সূচি তাদের। এই সময়ে দেশের মাঠে আছে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ভারতে পাঁচ টেস্ট ম্যাচের সফর, দেশের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ টেস্ট এবং ২০২৭ সালের জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ।
রপর ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর যৌথভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। ততদিনে তার হবে ৩৮ ছুঁইছুঁই। ধারণা করা যায়, ২০২৭ অ্যাশেজ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেট ও ২০২৭ বিশ্বকাপ দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর লক্ষ্য তার। সেই পরিকল্পনায় থাকতেই টি-টোয়েন্টিকে বিদায় দেওয়াকে উপযুক্ত মনে করছেন স্টার্ক।
তিনি বলেন,‘২০২৭ সালে ভারতে টেস্ট সফর, অ্যাশেজ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হয়েছে, চনমনে ও ফিট থাকতে এবং নিজের সেরা চেহারায় থাকতে এটিই (টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর) আমার জন্য সেরা পথ। এখন অবসর নেওয়ায় আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বোলিং গ্রুপের তৈরি হওয়ার সময়টুকু থাকছে।’
অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের ও অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের মাঠে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ মাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপের আগেই টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানালেন মিচেল স্টার্ক । মূলত টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বললেন এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম পেসার। অন্যদিকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে মিচেল স্টার্কের ভাবনায় আগামী বছরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচি ও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















