বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই এখন বার্তি উন্মাদনা! এবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি দুই দল। এ ম্যাচে ভারত পরিষ্কার ফেবারিট। তবে টাইগারদের পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ভারতের বিপক্ষে জিততে চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে টিম বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জায়গায় ভারতের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার হলেও ভারতই ফেবারিট থাকত। এ মুহূর্তে খাতা–কলমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের চেয়ে বড় ফেবারিট আর কোনো দল নেই। এরপরও ভারত হারে, ক্রিকেটে শক্তিশালী প্রতিপক্ষরাও কখনো কখনো মুখ থুবড়ে পড়ে।
২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভারত ৩৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। যেখানে হেরেছে মাত্র ৩ ম্যাচ। বাংলাদেশ দল আজ তিনকে চার বানাতে চাইবে। যদিও কাজটা কঠিন! কারণ এশিয়া কাপে ভারত যে ম্যাচগুলো খেলেছে, সেগুলোর স্কোরবোর্ডে চোখ বুলিয়ে এলেই বুঝতে পারবেন।
প্রশ্ন হলো, কঠিন এ ম্যাচে বাংলাদেশের কেমন একাদশ সাজাতে পারে? ওপেনিং নিয়ে প্রশ্ন নেই। বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম চারজন নিয়েই আসলে কোনো প্রশ্ন নেই। সর্বশেষ ম্যাচে সাইফ হাসান খেলেছেন ৬১ রানের ইনিংস।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর ৬১ রানের ইনিংস সম্ভবত শুধু ভারতের বিপক্ষে নয়, পুরো এশিয়া কাপেই সাইফের জায়গা নিশ্চিত করে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রানে ফিরলেও তানজিদ হাসানের এ ম্যাচে জায়গা নিশ্চিত। টি-টোয়েন্টি দলে যে কয়টা নাম আগে লেখা হয়, তার মধ্যে তানজিদ একজন।
আর তিনে লিটন দাস, চারে তাওহিদ হৃদয়। লিটন অবশ্য ভারত ম্যাচের দুই দিন আগে অনুশীলনে চোট পেয়েছেন। ব্যাটিং অনুশীলনের সময় পাওয়া চোটের পর সেদিন আর ব্যাট করেননি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে তখনই বলা হয়েছিল, চোটটি গুরুতর কিছু নয়।
তাই লিটনের খেলা নিয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই। তবু শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে লিটন খেলতে না পারলে পারভেজ হোসেনকে দলে নিতে পারে বাংলাদেশ। হৃদয়ের পর আছেন শামীম হোসেন।
এশিয়া কাপে হতাশ করে চলেছেন জাকের আলী। ফিনিশার হিসেবে খেলা এই ক্রিকেটার এশিয়া কাপে ৪ ম্যাচ খেলে একটি ছক্কাও মারতে পারেননি। আজ জাকের, নাকি নুরুল হাসান সোহানের ওপর দল ভরসা রাখবে, সেটা একটা প্রশ্ন। তবে জাকেরের খেলার সম্ভাবনাই বেশি।
ডানহাতি স্পিনার মেহেদী হাসানের দলে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ২৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী। আর অভিষেক শর্মাকে নতুন বলে ফেরাতে কার্যকর হতে পারেন এই ডানহাতি স্পিনার। গত ম্যাচে আরেক স্পিনার হিসেবে খেলেছেন নাসুম আহমেদ।
দলে সুযোগ পাননি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। রিশাদের অবশ্য ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয়। ভারতের বিপক্ষে ৪টি টি-টোয়েন্টি খেলে ৫ উইকেট নিতে ওভারপ্রতি ১৪.১৬ করে রান দিয়েছেন এই লেগ স্পিনার। সে হিসাবে নাসুমেই এ ম্যাচে ভরসা রাখতে পারে দল।
পেসার হিসেবে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের খেলা নিশ্চিত। শরীফুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে ফিরবেন আরেক পেসার তানজিম হাসান। ভারতের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন তানজিম।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশঃ লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলী, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন/নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















