সুপার ওভারে প্রথম বলেই উইকেট নেন মোস্তাফিজ। কিন্তু বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে ১ ওভারে ১০ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। জবাবে ১১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। উইন্ডিজ বল দেন আকিল হোসেনকে। তিনি প্রথম ওয়াইট, দ্বিতীয় বল নো দেন। ফলে ৫ বলে ৬ রান দরকার। সেখান থেকে ১ বলে ৫ দরকার। ফের ওয়াইট দেন আকিল। কিন্তু ১ বলে তিন রানও করতে পারেনি বাংলাদেশ।
অথচ শেষ ওভারে রান লাগত ৫। আকিল প্রথম দুই বল করলেন মিস। এরপরের দুই বলে রান হয় এক রান করে। শেষ দুই বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান লাগত ৩। ওভারের পঞ্চম বলে আকিল আউট হলে ১ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লাগত ৩ রান। শেষ বলে নতুন ব্যাটসম্যান খারি পিয়েরে ক্যাচ তুলে দিলে সেটা নিতে পারেননি নুরুল হাসান। দৌড়ে দুই রান নিয়ে ম্যাচ টাই করেন পিয়েরে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম টাই।
মিরপুরের স্পিন স্বর্গে নিজেদের ফাঁদে পড়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ টাই হয়। স্বাগতিকদের দেওয়া ২১৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। ফলে ম্যাচ টাই হয়।
জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে ১৮ বলে জয়ের দরকার ছিল ২৫ রান। তখন মিরাজের হাতে কোন স্পেশাল স্পিনার ছিল না। তখন বোলিংয়ে এসে অধিনায়ক মিরাজ দেন ১১ রান। ফলে ১২ বলে ১৪ রান। এরপর শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে দারুণ বোলিং উপহার দেন সাইফ হাসান।শেষ ১ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১ রান। কিন্তু দুই রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা।
এর আগে মিরপুরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৩ রান করেছে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে ব্যক্তিগত ৬ রান করে ক্যাচ দিয়ে দলীয় ২২ রানের মাথায় বিদায় নেন সাইফ হাসান। সতীর্থকে হারিয়ে সৌম্য সরকার এক প্রন্ত আগলে রেখে টেস্টে ফর্মে ব্যাটিং শুরু করেন।
তবে উইকেটে অন্যপ্রান্তে একের পর এক উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ওয়ানডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে হৃদয় ১৯ বলে ১২, নাজমুল হোসেন শান্ত ২১ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন। ১৭.২ ওভারে দলীয় ৬৮ রানে তিন উইকেট হারায় বাংরাদেশ। অভিষেক ম্যাচে দারুণ ব্যাট করা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কান ভালো শুরুর পর ১৭ রানের বেশি করতে পারেনি।
তার বিদায়ের পর ছক্কার আশায় বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য। ৮৯ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৪৫ রান করেন এই ওপেনার। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ৩০.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৩ রান।
দলে ফেরা স্পিনার নাসুম আহমেদ বিদায় ১৪ রানে। পরে নুরুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়ানডে ফর্মেটের স্ট্রাইক রেটে ধরে রেখে ২৪ বলে ২৩ রান করে বিদায় নেন এই উইকেট কিপার ব্যাটার। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ৪৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৩।
তবে শেষ দিকে মিরাজের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন রিশাদ হোসেন। এই স্পিনার ১৪ বলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৩৯ রান করেন। এছাড়া মিরাজ ৫৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন।
