টানা ব্যর্থতার পর ওয়ানডেতে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ। শনিবার মিরপুরে রিশাদ হোসেনের অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭৪ রানে জয় পেয়েছে টাইগাররা। ওয়ানডেতে টানা চার হারের পর জয়ে ফিরল টাইগাররা। ব্যাট হাতে ২৬ রান ও বল হাতে ৯ ওভারে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা রিশাদ হোসেন।
২০৮ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং জুটিতে ১২ ওভারে ৫১ রান তোলে ক্যারিবিয়ান ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও আলিথ আথানাজে! তবে মন্থর উইকেটে প্রথম ব্রেক থ্রো এনে দেন রিশাদ হোসেন। টানা ৭ ওভার বোলিং করে ২৫ রান দিয়ে একাই পাঁচ উইকেট তুলে নেন এই লেগ স্পিনার।
রিশাদের ঘুর্ণিতে প্রথমে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন আলিথ। ৩৬ বলে তিন চার ও এক ছয়ে ২৭ রান করেন এই ওপেনার। তিনে নেমে কেসি কার্টি ৯ রান করে ক্যাচ দেন সাইফ হাসানের হাতে। ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ৪৪ রানে উইকেটের পেছনে সোহানের তালুবন্দি। শেরফান রাদারফোর্ড শূণ্য ও রোস্টন চেইজ ৬ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।
২৪ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৯২। সাতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯তম ওভারে মিরাজের বলে ৩ রানে এলবিডাব্লিউ গুডারশেক মোটি। দলীয় ১০০ রানে ৬ উইকেটে হারায় তারা। এরপর অধিনায়ক শাই হোপ ১৫ রান করে তানভিরের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
শেষ দিকে মোস্তাফিজের জোড়া আঘাতে ৩৬.২ ওভারে ১২২ রানে ৯ উইকেটে হারায় তারা। এরপর শেষটা করেছেন রিশাদ হোসেন। ৩৯তম ওভারে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন রিশাদ হোসেন। ফলে ৩৯ ওভারে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। বল হাতে রিশাদ হোসেন ৬টি। এছাড়া মোস্তাফিজ নেন দুটি উইকেট।
এর আগে মিরপুরের আলোচিত কালো মাটির মন্থর উইকেটে শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা টার্ন পান। অবশ্য পেসাররাও ভুগিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। এমন পিচে পুরো ওভার কাটানোই ভীষণ মুশকিল! সাবধানতায় খেললেও সেটা করতে না পেরে ২ বল বাকি থাকতে অলআউট হলো টাইগাররা।
ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন তাওহিদ হৃদয়। তার ৯০ বলের ইনিংসে চার তিনটি। তবে অভিষেক ওয়ানডে খেলতে নামা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন করেন ৭৬ বলে ৪৬ রান। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৬৩ বলে ৩২ রান।
শেষদিকে রিশাদ হোসেন ২৬ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেললে দুইশ পেরোতে পারে বাংলাদেশ। ১৩ বল মোকাবিলায় মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। এদিন দলীয় ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে দেখেশুনে খেলে ২৯.৫ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করে বাংলাদেশ।
শেষ বেলায় বাংলাদেশের রানের গতি বাড়ে। শেষ ৫ ওভারে তারা ৫ উইকেট হারালেও যোগ করে ৪৩ রান। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারের নতুন উদ্বোধনী জুটি সুবিধা করতে পারেনি। সাইফ হাসান ৩ ও সৌম্য ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ।
শুরুর চাপের পর বেশ কয়েকটি জুটি হলেও রানের চাকা হয়ে পড়ে শ্লথ। তৃতীয় উইকেটে শান্ত ও হৃদয় যোগ করেন ১২০ বলে ৭১ রান। এরপর হৃদয়ের সঙ্গে ৭৫ বলে ৩৬ ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ৫৫ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন অঙ্কন।
ফিফটির পর জাস্টিন গ্রিভসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। আর ছক্কার আশায় মিরাজও দেন ক্যাচ। এরপর অভিষেকে ফিফটি পাওয়ার আশায় স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হওয়ায় ফিফটি পাওয়া হয়নি অঙ্কনের।
নুরুল হাসান সোহান আবার ব্যর্থ হলেও শেষদিকে রিশাদ তোলেন ঝড়। তবুও ৪৯.৪ ওভারে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২০৭ রানে। রিশাদ হোসেন ১৩ বলে এক বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ২৬ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সিলস তিনটি এবং চেইস ও গ্রিভস দুটি করে শিকার ধরেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৯.৪ ওভারে ২০৭/১০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৯ ওভারে ১৩৩/১০
বাংলাদেশ ৭৪ রানে জয়ী।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















