নাটকীয় বললেও কম হবে। রানবন্যা ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে রুপ নিয়েছিলো স্বাগতিক ভারত ও আফগানিস্তানের নিয়মরক্ষার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিটা। ব্যাঙ্গালোরের ম্যাচটায় প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে চার উইকেটে ২১২ রান তোলে ভারত। জবাবে খেলতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানই তোলে আফগানিস্তান। ফলাফল নির্ধারণে সুপার ওভারের আয়োজন। সেখানেও সমতা। ফলে আয়োজন করা হয় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। সেখানেই জয় পায় ভারত।
বেঙ্গালুরুতে সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল নিয়ম রক্ষার। কিন্তু নিয়ম রক্ষার ম্যাচ যে এমন সৌরভ ছড়াবে তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেন নি কেউ। শুধু নাটকীয়তা বললে কম বলা হবে। নাটকীয়তা থেকে হয়ে উঠে মহানাটকীয়। ক্রিকেট বিশ্ব হয়তো এমন ম্যাচ কখনোই দেখেনি, আর দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। টাই ম্যাচ থেকে সুপার ওভার, সেখানেও নিষ্পত্তি না হওয়ার আবার সুপার ওভার। দ্বিতীয় সুপার ওভারে স্বাগতিক ভারতের জয়। এর ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ভারত ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে।
৪২৪ রানের ম্যাচ টাই। ম্যাচের নিষ্পত্তিতে সুপার ওভার। দুই দলেরই রান ১৬ রান। জয়ী দল নির্ধারণে আবার সুপার ওভার। ভারত সেখানে তুলেছে ১১ রান, আফগানিস্তান আটকে যায় ১ রানেই। দ্বিতীয় সুপার ওভার জিতে ভারত ধবলধোলাই-ই করল আফগানিস্তানকে। এ নিয়ে নয়বার তিন বা এর বেশি ম্যাচের সিরিজে প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করল ভারত, তারা ছাড়িয়ে গেল পাকিস্তানকে।
প্রথম সুপার ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজের সঙ্গে গুলবাদিনকে পাঠায় আফগানিস্তান। লং অনে ম্যাচে দারুণ ফিল্ডিং করা বিরাট কোহলির কাছ থেকে ডাবলস নিতে গিয়ে প্রথম বলেই রানআউট হয়ে যান নাইব। তৃতীয় বলে গুরবাজ চারের পর চতুর্থ বলে সিঙ্গেলস। পঞ্চম বলে নবী মারেন ছক্কা। শেষ বলে গিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসনের করা থ্রো নবীর পায়ে লেগে যায় লং অনে, এরপরও নবী ও গুরবাজ সেই ওভার থ্রো থেকে নেন আরও ২ রান। নবী অবশ্য রান নিতে গিয়ে গতিপথ বদলাননি, ফলে আইন অনুযায়ী রান নিতে বাধা ছিল না আফগানদের। ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭ রান।
প্রথম বলে রানআউট হতে পারতেন যশস্বী জয়সওয়াল, তবে তিন স্টাম্প পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি গুরবাজ। প্রথম ২ বলে ওমরজাই দেন মাত্র ২ রান, কিন্তু তৃতীয় বলে ছক্কা পান রোহিত। সেটি অবশ্য বাউন্ডারি পার হয় অল্পর জন্য। কিন্তু পরের ছক্কায় ফুটে ওঠে রোহিতের ক্লাস, লো ফুল টসে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারেন তিনি। পরের বলে রোহিত নিতে পারেন সিঙ্গেল, ফলে শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু রিটায়ার্ড আউট হয়ে উঠে যান রোহিত, যেন রিংকু সিং এসে দৌড়াতে পারেন। কিন্তু শেষ বলে ১ রানের বেশি আসেনি।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে রিংকুকে নিয়ে নামেন রোহিত, যদিও আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন বলে আগের সুপার ওভারে কোনো ব্যাটসম্যান আউট হলে পরের সুপার ওভারে তিনি নামতে পারবেন না (বোলারও একাধিক ওভার করতে পারবেন না)। সেই রোহিত ফরিদ আহমেদের প্রথম ৩ বলে তোলেন ১১ রান। রিংকু চতুর্থ বলে হন কট বিহাইন্ড, পরের বলে রোহিত রানআউট হলে ভারতকে থামতে হয় ১১ রানেই। ভারত এ সুপার ওভার করতে পাঠায় রবি বিষ্ণয়কে, প্রথম বলেই ক্যাচ তোলেন নবী। তৃতীয় বলে ক্যাচ তোলেন গুরবাজও। ১২ রানের লক্ষ্য আফগানিস্তান আটকে যায় ১ রানেই!
