বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে আসা লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি ছিলেন ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দুই তরুণ তারকা। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠবে ইয়ামালের হাতেই। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছাপিয়ে এই সম্মান জিতে নিয়েছেন তার সতীর্থ পাউ কুবারসি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেনের রক্ষণভাগের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন এই সেন্টারব্যাক। শুধু তাই নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কারিগরও ছিলেন তিনি।
পুরো টুর্নামেন্টে আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন। ওপেন প্লে থেকে প্রতিপক্ষকে তারা সুযোগ দিয়েছে মাত্র ১.৬৯ এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি), যা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
ফাইনালেও আর্জেন্টিনাকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেয় স্প্যানিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো শটই নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। অতিরিক্ত সময়সহ পুরো ম্যাচে তাদের শট ছিল মাত্র দুটি।
সেই ম্যাচে কুবারসি ছিলেন স্পেনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলারদের একজন। তিনি সর্বোচ্চ ১৩৯ বার বল স্পর্শ করেন, ১২১টি সফল পাস দেন, পাসিং নির্ভুলতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ২১টি লাইন-ব্রেকিং পাস সম্পন্ন করেন। রক্ষণেও ছিল তার দাপট; সর্বোচ্চ ৬টি ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি ৭টি ডুয়েল জেতেন তিনি।
পুরো বিশ্বকাপেই বল নিয়ে আধিপত্য দেখিয়েছেন কুবারসি। রদ্রির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৭১টি সফল পাস দিয়েছেন এই ডিফেন্ডার। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ২২১টি ফরোয়ার্ড পাস এবং রদ্রির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৪টি লাইন-ব্রেকিং পাসও এসেছে তার পা থেকে।
শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল অসাধারণ। প্রতিপক্ষের প্রেস ভেঙে খেলা তৈরি করার ক্ষেত্রে কুবারসি ছিলেন স্পেনের অন্যতম বড় অস্ত্র।
অন্যদিকে ইয়ামালও দারুণ একটি বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন।
আক্রমণে সুযোগ তৈরি, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা এবং দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যান এবং ফাইনালে আধিপত্যপূর্ণ প্রদর্শনের কারণে শেষ পর্যন্ত বন্ধুকে পেছনে ফেলে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন পাউ কুবারসি।


