আর্জেন্টিনার ৫ম ফুটবল শত্রু দেশ স্পেন!

বিশ্বকাপ-ফাইনাল-আর্জেন্টিনা

ফুটবলে আর্জেন্টিনার চিরশত্রু আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি দেশ হল ব্রাজিল কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই তা যেন পরিবর্তন হয়ে ইংল্যান্ড হয়ে যায়! কিন্তু এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনা যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে হাতাহাতি, হলুদ কার্ড আর লাল কার্ড এবং ম্যাচের পর বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উত্তেজনার পারদ এতটাই উঠেছিল যা মারামারি পর্যন্ত হয়েছে আর তাতেই বলা হচ্ছে ফাইনাল শেষে ‘আর্জেন্টিনার ৫ম ফুটবল শত্রু দেশের তালিকায় স্পেন’ যুক্ত হয়েছে।  

আর্জেন্টিনার ৫ম ফুটবল শত্রু দেশ স্পেন!
রেফারিও ফেল তাদের হাতাহাতি থামাতে

আর্জেন্টিনার সাথে ফুটবল শত্রু দেশ কথাটা শুরু হয়েছে ব্রাজিলকে নিয়ে, দু-দেশের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ হলেই যেন উপমহাদেশের ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াইয়ের মত উত্তাপ ছড়ায়। আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশী ফুটবল ম্যাচ খেলেছে উরুগুয়ের সাথে প্রায় ২০০টি, কিন্তু তা সত্বেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবল মানেই দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা আর হাঙ্গামা কাজ করে। উরুগুয়ের সাথে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ পাওয়া যায় তবে উরুগুয়ের আগের সেই পারফরম্যান্স না থাকায় তার জায়গা যুক্ত হয়েছে ব্রাজিল।

বিশ্বকাপে আবার ব্রাজিল উত্তেজনা ছাড়িয়ে যুক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনার সাথে ইংল্যান্ড উত্তেজনা, প্রথমতঃ ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে তার পর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরী’ থেকেই শুরু দু-দেশের মধ্যে ফুটবল শত্রুতা। অন্যদিকে বিশ্বকাপে জার্মানির সাথেও বড় ম্যাচ বা নক আউট ম্যাচ থেকে শত্রুতার কথা শোনা যায়। ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরেই আর্জেন্টিনার ৩য় শিরোপা হাত ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু সবগুলোকে পাশকাটিয়ে এবার আর্জেন্টিনার ফুটবল শত্রুতার তালিকায় নিশ্চয়ই যুক্ত হল স্পেন তা কিন্তু বলাই যায়! তার কারণ ও অনেক আছে ২০২৬ এর ফাইনাল ম্যাচে যা হয়েছে তা থেকেই আর্জেন্টাইনরা স্পেনকে নির্দিধায় ফুটবলের ৫ম শত্রু দেশ ভাবতে পারে।

যেভাবে স্পেন আর্জেন্টিনার ৫ম শত্রু দেশে পরিনত হল:  

বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৬ এ স্পেন তাদের পাসিং ও কাউন্টার প্রেসিং ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ২য় বারের মত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। খালি চোখে হয়তো এতটুকুই, কিন্তু না, খেলার মধ্যে ও পরে অনেক বিতর্কিত ঘঠনা ঘঠেছে যার কারণে দু-দেশের মধ্যে তৈরী হয়েছে বৈরিতা। ম্যাচে স্পেনের কাছে না পেরে উঠে ফাউল করে বসে আর্জেন্টিনা যার কারণে ৫টি হলুদ কার্ড ও ১টি লাল কার্ড ম্যাচের উত্তেজনায় ঘি ঢেলে দেয় যার কারণে ম্যাচ শেষেও কোচিং স্টাফরাও (সহকারী কোচ) রবার্তো আয়ালা ঘুষি মেরে বসেন দানি ওলমোকে আবার অধিনায়ক রদ্রিকে ঘুষি মারেন মলিনা এখানেই শেষ নয়, এরিক গার্সিয়াকে গলা চেপে ধরার পর ধাক্কা মেরে ফেলে দেন গাভিকে এতসব উত্তেজনায় দু-দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরী হয়। একটা ভিডিওতে দেখা যায় স্পেনের কুকুরেয়া মেসির কথা বলার সময় নিজের মুখে হাত দেন আর তাতেই মেসি রেফারীকে নালিশ করছেন, এভাবেই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ যেন রূপ নিয়েছিল ফুটবল ‍যুদ্ধে।

লাল কার্ড:

খেলা শেষে ফিফার অফিসিয়াল ম্যাচ ট্র্যাকারে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ‘পারদেসের’ নামের পাশে লাল কার্ড দেখোনো হয়েছিল যদিও প্রায় ৩০ মিনিট পর সেটা মুছে ফেলা হয়েছে, তবে পারেদেসের লাল কার্ড ম্যাচে খেলার সময় দেখানো হয়নি ধারনা করা হচ্ছে খেলা শেষে যখন হাতাহতি হচ্ছিল তখন তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল এবং পরে তা মুছে ফেলা হয় । তবে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এখনও আছে কারণ এনজো ২বার হলুদ কার্ড দেখে তারপর লাল কার্ড পেয়েছিলেন অবশ্য ম্যাচের মধ্যেই তাকে লাল দেখানো হয়েছিল সেটা আর মুছে ফেলার কোন কারণ আছে বলে মনে হয়না।

পারেদেস চড়াও হয়েছেন স্পেনের গাভির ওপর

মেসির ভিডিও নিয়ে সংশয়:

অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেওয়া অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সব ভুলে যাও’ মন্তব্যটি নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ভিডিওর মূল কথা: ভিডিওতে দেখা যায়, ফাইনালের আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত হও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্ত থাকা। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও, ঠিক আছে? সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। চলো! মেসির বক্তব্যের পর দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও কৌশলগত আলোচনা হয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোকে স্পেনের আক্রমণভাগ, বিশেষ করে লামিন ইয়ামালের বিপক্ষে কীভাবে অবস্থান নিতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্তিনেস গোলরক্ষককে বলেন, ‘দিবু, ওরা যখন ভেতরে কাট করে তখন সাবধান থাকতে হবে। ওরা সব সময় পা খুলে শট নিতে চায়, তাই না? সেটা নিতে দেওয়া যাবেনা।

ওটামেন্ডি ও লাপোর্তে

লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘চলো নিকো, তুমি ওকে পুরো ম্যাচ জুড়ে আটকে রাখবে। দিবু, শক্ত থাকো। প্রতিটি বল নিজের করে নাও, ঠিক আছে?’ এ সময় সামনে হাঁটতে থাকা মেসি ঘুরে ডিফেন্ডারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ওরা যখন আক্রমণে আসবে, তখন পারেদেস আর ফার্নান্দেজ কে বলো যেন বেশি সামনে না উঠে।’

ভিডিওর শেষ দিকে রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে মার্তিনেজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আজ আমার দিন, আজ ইতিহাস তৈরি হবে।’ এরপর দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ করেন এবং ম্যাচ শুরুর আগে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু ম্যাচ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খেলার মধ্যে এবং শেষ বাঁশির পরও দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।

কোচ স্কালোনি:

সাংবাদিকরা ভিডিও নিয়ে কোচকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন- ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। আমি কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর খেলোয়াড়দের হাতে “মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা পতাকা নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, স্কালোনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আগে থেকে আমার কোনো ধারণা ছিল না। কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। আমি আপনাদের মতোই পরে পতাকাটি দেখেছি।’

মেসির বার্তা:

ভাইরাল ভিডিও পূর্ণাঙ্গ প্রকাশের পর অনেকের মতে, মেসির ‘সব ভুলে যাও’ বক্তব্যটি কোনো গোপন বার্তা নয়; বরং ফাইনালের চাপ, বাইরের আলোচনা ও মানসিক চাপ থেকে সতীর্থদের দূরে রাখতে শুধুমাত্র খেলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles