বিশ্বকাপ ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চেষ্টার শেষ নেই। আগামী বছরের ক্রিকেট বিশ্বকাপকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বড় পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগের আসরের ১০ দলের পরিবর্তে এবার অংশ নেবে ১৪টি দেশ। শুধু দলই বাড়ছে না, বাড়ছে ম্যাচের সংখ্যাও। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী সেমিফাইনালের আগে তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট।
বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের নতুন কাঠামো প্রকাশ করেছে আইসিসি। নতুন ব্যবস্থায় দলগুলোর জন্য আগের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের নাম রাখা হয়েছে ‘সুপার সিরিজ’। এই পর্বে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নিচের দিকে থাকা তিনটি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। তিন দলের মধ্যে শীর্ষে থাকা দলটি মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে মোট ১২টি দল। এর মধ্যে থাকবে সরাসরি জায়গা পাওয়া ১১টি দল এবং সুপার সিরিজ থেকে উঠে আসা একটি দল। ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল। গ্রুপপর্বে প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য পাঁচ দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ছয়টি দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে সেরা চতুর্থ স্থান অধিকারী দল জায়গা করে নেবে পরবর্তী পর্বে।

তৃতীয় পর্বের নাম ‘সুপার সেভেন’। এখানে সাতটি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ পাবে।
সেমিফাইনালে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দুই দল। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরা লড়বে বিশ্বকাপের ফাইনালে।
র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকায় ভারতের মতো দলগুলোকে প্রথম পর্বে খেলতে হবে না। তারা সরাসরি দ্বিতীয় পর্ব থেকে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপপর্বে অন্তত পাঁচটি এবং সুপার ৭-এ আরও ছয়টি ম্যাচ খেলবে তারা। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠতে পারলে ভারতের মোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি।
নতুন এই ফরম্যাটের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি, বেশি ম্যাচ আয়োজন এবং প্রতিযোগিতার মান আরও উন্নত করাই আইসিসির মূল লক্ষ্য। এর ফলে বিশ্বকাপ আরও দীর্ঘ, আকর্ষণীয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


