প্রাক্-মৌসুমের ম্যাচ। নামের মধ্যেই যেন বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই বন্ধুত্বের আবরণটা ধীরে ধীরে খুলে গেল, বেরিয়ে এলো উত্তেজনা, ক্ষোভ আর এক অদ্ভুত বিতর্ক। স্পেনের মালাগার বিপক্ষে ফুলহামের ম্যাচ শেষ হলো এমন এক ঘটনায়, যার চিত্রনাট্য হয়তো কোনো প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য কেউই লিখতে চাইবেন না।
বুধবার মালাগার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর পেনাল্টি শুটআউটের আগেই মাঠ ছেড়ে যায় ইংলিশ ক্লাব ফুলহাম। ম্যাচের শেষ বাঁশির আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ মুহূর্তে মালাগা সমতাসূচক গোল করার পর দুই দলের মধ্যে তৈরি হয় শুটআউট নিয়ে মতবিরোধ। আর সেই মতবিরোধই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আসল গল্প হয়ে দাঁড়ায়।
৯০ মিনিটে গোল করে ২-২ সমতা ফেরায় লা লিগার দল মালাগা। এরপর তাদের দাবি ছিল, ম্যাচের ফল নির্ধারণে পেনাল্টি শুটআউট হওয়ার কথা। কিন্তু ফুলহামের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইংলিশ ক্লাবটির দাবি, ম্যাচের আগে দুই দলই সম্মত হয়েছিল- ৯০ মিনিটে খেলা সমতায় শেষ হলে কোনো পেনাল্টি শুটআউট হবে না।

বিতর্কের মধ্যেই মালাগার খেলোয়াড়েরা পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান। গোলরক্ষকহীন প্রায় ফাঁকা গোলে বল পাঠিয়ে তারা নিজেদের জয়ের দাবি করে এবং জিতে নেয় ‘কোস্তা দেল সোল’ ট্রফি। অন্যদিকে ফুলহাম তখন মাঠে নেই।
ম্যাচের শেষদিকে উত্তেজনার আরেক অধ্যায় শুরু হয়েছিল ফুলহাম কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে ঘিরে। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন তিনি। মার্কো সিলভার বিদায়ের পর গ্রীষ্মে ফুলহামের দায়িত্ব নেওয়া আরবেলোয়ার জন্য নতুন ক্লাবে এটি ছিল এমন এক প্রাক্-মৌসুম অভিজ্ঞতা, যা নিশ্চয়ই তিনি স্মৃতির পাতায় সোনালি অক্ষরে লিখবেন না।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে ফুলহাম। ক্লাবটি জানায়, ম্যাচের আগে দুই দল সম্মত হয়েছিল-ড্র হলে পেনাল্টি শুটআউট হবে না। অর্থাৎ তাদের দৃষ্টিতে ২-২ ফলেই ম্যাচ শেষ হওয়ার কথা।
মালাগার বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। স্প্যানিশ ক্লাবটি বলেছে, শুটআউট নির্ধারিত ছিল। ফুলহাম মাঠ ছেড়ে যায় এই দাবি করে যে, ম্যাচের চুক্তিতে পেনাল্টি শুটআউটের কোনো কথা ছিল না।


