ডারউইনের আকাশে তখনও অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটু আলো। কিন্তু সেই আলো ক্রমেই ম্লান হয়ে আসছে। বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা এখন দাঁড়িয়ে ইনিংস হারের দ্বারপ্রান্তে। চতুর্থ দিনের লাঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪৩ রান। ইনিংস হার এড়াতে তাদের প্রয়োজন আরও ১৫ রান। হাতে মাত্র তিন উইকেট।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪২৬ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৯৮ রানে। ফলে বাংলাদেশ পেয়েছিল ২২৮ রানের বিশাল লিড। সেই লিডের চাপ নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিনের শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিল তারা। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই আবার ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং।
সকালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা আঁটসাঁট রেখেছেন আক্রমণ। গতকাল চার উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া আজ লাঞ্চের আগেই হারিয়েছে আরও তিনটি। ফলে ১৬১ থেকে ২৪৩-৭ উইকেটে থেমেছে তাদের প্রথম সেশনের পথচলা।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার বিপদের মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াইটা এখনো টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। লাঞ্চে অপরাজিত ৮৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন গ্রিন। ১৭২ বলের ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ধৈর্য আর প্রতিরোধের বার্তা। অন্য প্রান্তে তাঁর সঙ্গী মিচেল স্টার্ক, অপরাজিত ১৪ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লাঞ্চ পর্যন্ত ২৮ ওভারে ৫০ রান দিয়ে নিয়েছেন চার উইকেট। হাসান মাহমুদ পেয়েছেন দুটি।
বাংলাদেশের সামনে এখন অপেক্ষা কেবল তিনটি উইকেটের। আর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইনিংস হার থেকে বাঁচার জন্য মাত্র ১৫ রান। সেই ১৫ রান পেরোতে পারলেই অন্তত ইনিংস হার এড়াতে পারবে স্বাগতিকেরা। কিন্তু গ্রিন-স্টার্ক জুটি ভাঙলেই বাংলাদেশের সামনে খুলে যেতে পারে জয়ের দরজা।
ডারউইনের এই টেস্টে এরই মধ্যে বাংলাদেশ লিখেছে একাধিক নতুন গল্প। প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের শতক, হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং এবং ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল তারা। এখন সেই চাপ রূপ নিতে পারে ঐতিহাসিক জয়ে। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে শেষ সেশনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
আর অস্ট্রেলিয়ার শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন গ্রিন। তাঁর ব্যাট যতক্ষণ কথা বলবে, ততক্ষণ বেঁচে থাকবে স্বাগতিকদের আশা। কিন্তু ১৫ রান পেরোনোর আগেই যদি বাংলাদেশের বোলাররা শেষ তিনটি দরজা খুলে ফেলতে পারেন, ডারউইনে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবে বাংলাদেশের এক অবিস্মরণীয় জয়।


