দ্বিতীয় টেস্টে একাদশ নিয়ে সিমন্সের ভাবনা

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর এবার ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের বড় জয় পাওয়া বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকলেও একাদশ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। চোট কাটিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে খেলানো হবে কি না, সেটিও জানা যাবে ম্যাচের আগের দিন।

আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ডারউইনের সাফল্যের পর এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে।

শরিফুলের ফেরায় বোলিং আক্রমণে বিকল্প বেড়েছে বাংলাদেশের। তবে জয়ের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন সিমন্স। সংবাদ সম্মেলনে চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এটা এখনো ঠিক করিনি। কালকে ঠিক করব।’

শরিফুলকে নিয়ে সিমন্সের প্রশংসা অবশ্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘সে আমাদের দলে ভিন্ন কিছু এনে দেয়। তবে মাত্রই টেস্ট ম্যাচ জিতলাম। ফলে জেতার একাদশে বদল আনার সম্ভাবনা কম। এগুলো শুধুই সম্ভাবনা, কালকে সিদ্ধান্ত নেব।’

ম্যাকাইয়ের উইকেট নিয়েও আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ। তাঁর চোখে এটি ভালো টেস্ট উইকেট। সিমন্স বলেন, ‘পিচ দারুণ। কিছুটা ঘাস আছে। অনেক শক্ত। ভালো টেস্ট উইকেট। প্রতিটি উইকেটই ব্যাটারদের জন্য ভালো। ব্যাপারটা হচ্ছে আপনি ঠিকভাবে ব্যাট করছেন কিনা।’

ম্যাকাইয়ের ম্যাচ পাঁচ দিন গড়াবে কি না, এমন প্রশ্নে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি সিমন্স। হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘আসলে আমি জানি না। সম্ভবত তাকে (কিউরেটর) এসে বলতে হবে। এখনই বলতে পারছি না।’

ডারউইন থেকে ম্যাকাইয়ে যেতে দলের দীর্ঘ যাত্রা নিয়েও কথা বলেছেন বাংলাদেশ কোচ। ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট পিছিয়ে যাওয়া তো কারও হাতে নেই। এটা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে এটাই হয়েছে আমাদের সঙ্গে। এখানে নিরাপদে পৌঁছেছি, ফলে এটাই বেশি জরুরি।’

শরিফুল ফেরায় বোলিং আক্রমণে ভালো বিকল্প তৈরি হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুরু থেকেই তাঁর হাতে পর্যাপ্ত পেসার ছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবসময়ই হাতে ভালো অপশন ছিল। দলে সবসময়ই পাঁচজন পেসার ছিল। অন্য পেসাররা ছিল এখানে। তিনজন খেলিয়েছি আগের ম্যাচে, বড় জয় এসেছে। কালকে পরের ম্যাচে কয়জন খেলাব, তা ঠিক করব।’

ডারউনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার অভিজ্ঞতা কন্ডিশন বুঝতে কতটা কাজে দিয়েছে, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন সিমন্স। তাঁর মতে, মাঠে নেমে পারফর্ম করার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে কথা বললে ভালো ব্যাপার। তবে এরপরেও আপনাকে মাঠে গিয়ে খেলতে হবে, নিজের কাজটা করতে হবে।’

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রশংসাও করেছেন তিনি। সিমন্স বলেন, ‘তারা, মুশি (মুশফিকুর রহিম) এবং মুমিনুলও (মুমিনুল হক) ভালো করেছে। বাকিদের এখানে এসে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। যে কারণে প্রথমে এসেই আমাদের তিন দিনের ম্যাচ খেলতে হয়েছে। এসবের মাধ্যমেই কন্ডিশন বুঝতে পেরেছি আমরা।’

ম্যাকাইয়ে বাতাসের প্রবাহ বেশি হওয়ায় ব্যাটারদের সমস্যা হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নেও খুব বেশি চিন্তিত নন সিমন্স। তাঁর মতে, দুই দলকেই একই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। ‘ডারউইনেও অনেক বাতাস ছিল। দুই দলকেই এভাবে খেলতে হবে। ভালোভাবে মানিয়ে নিতে হবে। আগে আসতে পেরে তাই ভালোই হয়েছে। আমরা জানি এখানে কী কন্ডিশন। ছেলেদের কেবল মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলতে হবে।’

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন সিরিজ জয়ের সুযোগ। ম্যাকাইয়ে সেই ইতিহাস আরও বড় করতে হলে প্রথম টেস্টের মতোই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে বাংলাদেশকে।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles