অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ড্রয়ের চিন্তায় রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া যাবে না বলে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার অ্যালান ডোনাল্ড। ডারউইনে যে পরিকল্পনা ও মানসিকতা নিয়ে বাংলাদেশ খেলেছে, ম্যাকাইয়েও সেটিই ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই পেসার।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়ের হাতছানি।
তবে দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকেরা যে সর্বশক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে, সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড। ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করা ৫৯ বছর বয়সী সাবেক এই পেসার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অডিও বার্তায় এএফপিকে বলেন, ‘বাংলাদেশকে দ্বিতীয় টেস্টে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে অস্ট্রেলিয়া তাদের সব অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে।’
দুই ম্যাচের সিরিজে এক ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক মানসিকতায় চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ডোনাল্ডের। তাঁর মতে, ড্রয়ের চিন্তা করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা থেকে সরে যাওয়া যাবে না।
ডোনাল্ড বলেন, ‘দুই ম্যাচের সিরিজে সহজেই বলা যায়, “আসলে কিছুই হয়নি; আমরা সিরিজ হারতে পারি না।” এরপর রক্ষণাত্মক হয়ে ভাবা যায়, “যদি ম্যাচটা ড্র করতে পারি, তাহলে আমাদের কাজ হয়ে গেছে।”’
তাঁর পরামর্শ, ডারউইনে যে পরিকল্পনা কাজে দিয়েছে, সেটির ওপরই বিশ্বাস রাখতে হবে বাংলাদেশকে। প্রথম টেস্টের জয়ের পেছনে দলের মানসিক দৃঢ়তাকেও বড় করে দেখছেন তিনি।
প্রথম টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিষয়টি ডোনাল্ডের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।
‘আগের ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর সত্যি বলতে কিছুটা ধাক্কা লাগতেই পারে। কিন্তু এরপর তাদের প্রতিক্রিয়াটা ছিল অসাধারণ,’ বলেন তিনি।
বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণেরও প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড। তাঁর সময়ের পর বাংলাদেশ যে পেস বোলিংয়ে আরও গভীরতা তৈরি করেছে, সেটিতে সন্তুষ্ট সাবেক এই কোচ। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক ফর্মে মুগ্ধ তিনি।
ডোনাল্ড বলেন, ‘তারা আধিপত্য বিস্তার করে বোলিং করেছে। হাসান এখন অবিশ্বাস্য ফর্মে আছে। তার জন্য আমি খুবই খুশি।’
হাসানের দক্ষতার কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে নেটে যখন প্রথম তাকে দেখেছিলাম, তখনই মনে হয়েছিল, এই ছেলেটির দক্ষতা আছে। তার নিয়ন্ত্রণ অসাধারণ; বলকে একেবারে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে পারে এবং দুই দিকেই সুইং করাতে পারে।’
ডারউইনে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের গভীরতাও ফুটে উঠেছে বলে মনে করেন ডোনাল্ড। চোটের কারণে নাহিদ রানা না থাকলেও বাংলাদেশ যে শক্তিশালী পেস আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামতে পেরেছে, সেটিকে দলের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি।
ডোনাল্ডের ভাষায়, ‘একটি বোলিং আক্রমণের গভীরতা কতটা কার্যকর, তা বোঝা যায় যখন নাহিদ রানা না থাকলে ইবাদত হোসেনের মতো একজন এসে তার কাজটা করে দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটি বোলিং আক্রমণের গভীরতা সম্পর্কে অনেক কিছু বলে। এটা দেখতে ভালো লাগছে, বাংলাদেশ তাদের বোলিং লাইনআপে গভীরতা তৈরি করছে।’
প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে বড় ধাক্কা দেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। ডোনাল্ডের বার্তা অবশ্য পরিষ্কার—অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের কথা মাথায় রেখেও নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যাওয়া যাবে না।


