আর মাত্র আট দিন পর শুরু হচ্ছে নারীদের এশিয়া কাপ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এবার আলোচনায় উঠে এসেছে ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠান। কারণ, ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে এশীয় ক্রিকেট সংস্থার প্রধান মহসিন নাকভির হাত থেকে তারা ট্রফি গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত চ্যাম্পিয়ন হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি ভারতীয় দল। সেই ট্রফি নিয়ে বিতর্কের সমাধান এখনও হয়নি। ট্রফি নেয়নি ভারত।
এবারও এশিয়া কাপের আসর সামনে রেখে একই প্রশ্ন ফিরে এসেছে। প্রত্যাশামতোই ভারত ও পাকিস্তানকে রাখা হয়েছে একই গ্রুপে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতীয় নারী দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাদের শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর ভারত শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হলে ট্রফি গ্রহণের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মহসিন নাকভি এখনও এশীয় ক্রিকেট সংস্থার প্রধান। ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি এবং বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিহামলা ও অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে, তার প্রভাব ক্রিকেটেও পড়েছে। দুই দেশের দল মুখোমুখি হলেও খেলোয়াড়দের মধ্যে হাত মেলানোর প্রচলিত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। আসন্ন এশিয়া কাপেও সেই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠান নিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পরিস্থিতি নির্ভর করবে টুর্নামেন্টের সময়কার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশের ওপরও।
যদি নাকভি নিজেই বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার বিষয়ে অনড় থাকেন, তাহলে গত বছরের মতো ভারতীয় দলের ট্রফি গ্রহণ না করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, এশীয় ক্রিকেট সংস্থার পক্ষ থেকে অন্য কোনো কর্মকর্তাকে ট্রফি দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলে ভারতীয় দলের তা গ্রহণে বাধা নাও থাকতে পারে।
এশিয়া কাপের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার নজর থাকবে পুরস্কার মঞ্চেও। গত বছরের অমীমাংসিত বিতর্কের পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি নতুন কোনো সমাধান মিলবে-সেই উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে।


