শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুক্রবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও আইনজীবীরা স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার দাবি ঘিরে পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে।
স্বাস্থ্যের অবনতির অভিযোগে পিটিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তিন সদস্যের বেঞ্চের রায়ে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার নির্দেশ দেয়।
সরকার ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের কারণ দেখিয়ে আবেদনটি ফেরত দেয়। সরকার অবশ্য দাবি করে আসছে, ব্যক্তিগত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হলে তা অন্যান্য বন্দির ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করতে পারে।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে হয়নি ইমরানকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করা হয় এবং শুক্রবার ভোরেই আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, ক্রিকেট বিশ্বেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে গ্রেগ চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবসহ ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরান খানকে যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কারাগারে থাকা ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আবার দ্রুত কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আসলে কতটা উদ্বেগজনক।


