ইউএস ওপেনের মিক্সড ডাবলসে এবার ছিল তারকাদের মিলন। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছে কার্লোস আলকারাজ ও সেরেনা উইলিয়ামসের জুটি। স্প্যানিশ টেনিসের বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় তারকা আলকারাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে চার বছর পর নিজের ঘরের গ্র্যান্ড স্লামে ফিরেছিলেন ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সেরেনা। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে থামতে হলেও তাদের উপস্থিতি ঘিরে ইউএস ওপেনে তৈরি হয় দারুণ উন্মাদনা।
টুর্নামেন্টের নতুন করে সাজানো মিক্সড ডাবলস ফরম্যাট নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই ছিল আলোচনা-সমালোচনা। অনেক প্রতিষ্ঠিত ডাবলস খেলোয়াড়ের পরিবর্তে শীর্ষ একক তারকাদের আকর্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। তবে আলকারাজ-সেরেনার ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি সেই তারকা-নির্ভরতার জনপ্রিয়তাই যেন প্রমাণ করেছে।
আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে তাদের ম্যাচ দেখতে হাজির হয়েছিলেন প্রায় ১৫ হাজার দর্শক। গ্যালারিজুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস আর করতালির ঝড়। আলকারাজ ও সেরেনা কোর্টে নামার সময়ই গর্জে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
প্রথম ম্যাচেই ব্রিটেনের লয়েড গ্লাসপুল ও নিউজিল্যান্ডের এরিন রাউটলিফের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পায় আলকারাজ-সেরেনা জুটি। ৫-৩ ও ৪-১ গেমে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটেন তারা। শুরুতে কিছুটা বোঝাপড়ার ঘাটতি থাকলেও ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন দুজন। শেষ নয়টি গেমের আটটিই জিতে প্রথম ম্যাচে জয় নিশ্চিত করেন তারা।
এই ম্যাচটি আলকারাজের জন্যও ছিল বিশেষ। কব্জির চোটের কারণে এপ্রিলের পর আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি সাতবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই স্প্যানিশ তারকা। অন্যদিকে সেরেনা নিউইয়র্কে ফিরলেন ২০২২ সালে টেনিস থেকে সরে দাঁড়ানোর পর প্রথমবার। ফলে দুজনের এই জুটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং দুই ভিন্ন প্রজন্মের টেনিস তারকার বিশেষ পুনর্মিলনও হয়ে ওঠে।
সেরেনার বয়স এখন ৪৪ বছর। অথচ কোর্টে তার প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় এতটুকুও ভাটা দেখা যায়নি। আলকারাজের সঙ্গে পয়েন্ট জেতার পর দুজনকে একে অপরকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উৎসাহ দিতে দেখা যায়। মুখে ছিল হাসি, আর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের পর ছিল উদযাপন।
ম্যাচের এক পর্যায়ে প্রান্ত বদলের সময় আলকারাজকে সেরেনার সঙ্গে খেলার অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি ‘এক এবং একমাত্র সেরেনা উইলিয়ামসের’ পাশে খেলছেন। তাই তার কাজ ছিল সেরেনার দেওয়া নির্দেশনা মেনে খেলা এবং মুহূর্তটি উপভোগ করা।
এই জুটির মধ্যে বয়সের ব্যবধানও ছিল দারুণ আলোচনার বিষয়। ১৯৯৮ সালে ম্যাক্স মিরনির সঙ্গে জুটি বেঁধে ইউএস ওপেনের মিক্সড ডাবলস শিরোপা জিতেছিলেন সেরেনা। সেই শিরোপা জয়ের পাঁচ বছর পর জন্ম আলকারাজের। প্রায় তিন দশক পর একই প্রতিযোগিতায় আবারও মিক্সড ডাবলসে কোর্টে নামলেন সেরেনা, এবার তার সঙ্গী টেনিসের নতুন প্রজন্মের অন্যতম মুখ আলকারাজ।
তবে রূপকথার মতো এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বর খেলোয়াড় ফ্লাভিও কোবোল্লি ও সুইজারল্যান্ডের বেলিন্ডা বেনচিচের মুখোমুখি হন তারা। কঠিন লড়াইয়ের পর আলকারাজ-সেরেনাকে ৫-৪ (৭-৪), ৪-১ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় কোবোল্লি-বেনচিচ জুটি।
তবে ফলাফল যাই হোক, আলকারাজ ও সেরেনার এই জুটি ইউএস ওপেনের নতুন মিক্সড ডাবলস ফরম্যাটকে দিয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। একদিকে চোট কাটিয়ে আলকারাজের প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে চার বছর পর সেরেনার ইউএস ওপেনে ফেরা; —দুই গল্পকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে এই বিশেষ জুটি। আর তাই কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও আলকারাজ-সেরেনার এই অধ্যায়টিই হয়ে থাকল ইউএস ওপেনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত।


