চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গেল দুই আসরে আর্থিক লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আরেকটি ‘জোড়াতালি’র টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় না বোর্ড। সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে এরপর বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন দেশের ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে জাতীয় দলের বাইরে থাকা যেসব ক্রিকেটার নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য বিপিএল না হওয়া বড় ধাক্কা হতে পারে। এ কারণে বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল রোববার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা খেলোয়াড়েরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।
বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের আগে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলাদা করে আলোচনা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমরা কালকে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বসব, তার আগে নিজেরা আলাদা করে বসব। ক্রিকেটাররা তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে জানাবে। শুধু বিপিএল নয়, দেশের সব ঘরোয়া লিগ নিয়েই আমরা কথা বলব।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারিশ্রমিক কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছেন মিঠুন। তাঁর ভাষায়, ‘সবশেষ ডিপিএলেও ভালোভাবে পারিশ্রমিক পায়নি ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে ক্রিকেটাররা তাদের নিজেদের কথা বলবে।’
এর আগে বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবালও চলতি বছর বিপিএল মাঠে না গড়ানোর আভাস দিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টটি নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার পরই আবার আয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
জাতীয় দলের নিয়মিত ২০ থেকে ২৫ জন ক্রিকেটারের বাইরে দেশের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল। চলতি বছর ডিপিএলেও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে বিপিএল না হলে তাঁদের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বিপিএলের বিকল্প হিসেবে ক্রিকেটারদের জন্য অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে কোয়াব। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এর আগে বলেছিলেন, বিপিএল আয়োজন সম্ভব না হলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে বিকল্প কোনো প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।


