ইমরানের মুক্তির দাবিতে কাঁদলেন সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ। একসময়কার সতীর্থ ইমরান খানের প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেও ফেলেন তিনি।

সম্প্রতি ‘ন্যারেটিভস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কাউন্টি ক্রিকেট থেকে শুরু করে পাকিস্তান জাতীয় দল—দীর্ঘ সময় তাঁরা একসঙ্গে খেলেছেন এবং একে অপরের নেতৃত্বেও খেলেছেন।

ইমরানের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনো কোনো রকম শত্রুতা ছিল না। আমরা বছরের পর বছর একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। বছরে ছয় মাসের বেশি একসঙ্গেই থাকতাম। বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে গিয়েছি। পাকিস্তানের হয়ে একসঙ্গে খেলেছি। দুজনেই দুজনের নেতৃত্বে খেলেছি। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক ছিল।’

এরপর ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। এখন ইমরানের কথা ভাবলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। জানি না জেলের মধ্যে ও কী অবস্থায় রয়েছে।’

ইমরানের মুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমার মন বলছে, ওর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। ওকে মুক্তি দিলে সমস্যা কী? আমাকে কেউ কি বুঝিয়ে বলবেন? ইমরানকে মুক্তি দিলে কি পাকিস্তান মুছে যাবে? সবার বোঝা উচিত, আমরা সবাই পাকিস্তানি।’

ইমরানকে সৎ মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন মিয়াঁদাদ। তাঁর ভাষায়, ‘আমি ইমরানকে খুব ভালোভাবে চিনি। অত্যন্ত সৎ মানুষ। কোনো দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিল না। ইমরান দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিল।’

সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বানও জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান পাওয়া যেতে পারে। ইমরান অসম্ভব শ্রদ্ধার মানুষ। পাকিস্তানের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। আমাদের বোধহয় একটু ভাবা দরকার।’

ইমরানের কারাগারে কোনো অঘটন ঘটলে তার দায় নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর না করুন, জেলের ভেতরে ওর কিছু হয়ে গেলে গোটা পাকিস্তান কাঁদবে। তখন মানুষই প্রশ্ন তুলবে, ইমরানের মতো একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো?’

তিনি আরও বলেন, ‘ইমরান তো চুরি করেনি। যা করেছে, পাকিস্তানের স্বার্থে করেছে। নিজের সবকিছু দেশের জন্য দিয়েছে। দেশের জাতীয় নায়কের সঙ্গে এমন আচরণ দুর্ভাগ্যজনক, অত্যন্ত দুঃখের। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়।’

ইমরানের কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক সাবেক তারকাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড ও অ্যালান বর্ডারের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা তাঁর চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের টেস্ট চলাকালে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে ইংলিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন তৈরি হয়। সাক্ষাৎকার সম্প্রচার বন্ধ না হলে পাকিস্তান দল ম্যাচের পরবর্তী সেশনে মাঠে নাও নামতে পারে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকার ও টেস্ট—কোনোটিই বন্ধ হয়নি।

পাকিস্তানের ক্রিকেটাঙ্গনে ইমরানকে নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। সেই জায়গায় মিয়াঁদাদের সরাসরি মুক্তির দাবি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন ইমরান খান। তাঁর পরিবার ও দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তাঁর কারাবাসের পরিবেশ, চিকিৎসা ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্ব, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে বিধিনিষেধ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের অবস্থান ভিন্ন।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে এবার প্রকাশ্যে সরব হলেন তাঁর সাবেক সতীর্থ ও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ। তাঁর আবেগঘন বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশটির ক্রিকেটাঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles