টানা কয়েক ম্যাচের হতাশা যেন এক রাতেই মুছে দিল ইন্টার মায়ামি। নিজেদের মাঠে সিএফ মন্ট্রিলকে রীতিমতো গোলবন্যায় ভাসিয়ে ৭-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে মায়ামি। ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল চরিত্র লিওনেল মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র একের পর এক তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এই জয়ের আগে মায়ামির সময়টা মোটেও স্বস্তির ছিল না। ১৫ আগস্ট ন্যাশভিল এসসির মাঠে ৪-১ গোলে হেরে যায় তারা। এরপর ১৯ আগস্ট ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে। সর্বশেষ ২২ আগস্ট নিজেদের মাঠে টরন্টো এফসির কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় মায়ামি। সেই ম্যাচেও গোল করেছিলেন মেসি।
ফলে মন্ট্রিলের বিপক্ষে ম্যাচটি মায়ামির জন্য শুধু আরেকটি লিগ ম্যাচ ছিল না; ছিল ছন্দে ফেরার পরীক্ষা। ম্যাচের আগে ২১ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে ছিল মায়ামি। ন্যাশভিলের পেছনে থাকলেও আক্রমণভাগের শক্তিতে তারা ছিল লিগের অন্যতম সেরা দল।
মন্ট্রিলের বিপক্ষে অবশ্য মায়ামির সেই আক্রমণাত্মক শক্তি পুরোপুরি প্রকাশ পেতে শুরু করে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর বিরতির পর ম্যাচ কার্যত মেসির ব্যক্তিগত প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। তিন গোলই করেন তিনি দ্বিতীয়ার্ধে। তার বাঁ পায়ের জাদুতে একের পর এক ভেঙে পড়ে মন্ট্রিলের রক্ষণ। মায়ামির হয়ে অন্য গোলগুলো করেন কাসেমিরো, লুইস সুয়ারেজ ও আলেক্সান্ডার শ। একটা গোল ছিল আত্মঘাতি।

মেসির হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি মায়ামির গোলবন্যায় অবদান রাখেন দলের অন্য তারকারাও। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার দেখানো মায়ামি শেষ পর্যন্ত সাত গোল করে। বিপরীতে মন্ট্রিলের সান্ত্বনার গোলটি তাদের বড় পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। এই জয় মায়ামির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত কয়েক সপ্তাহে দলটি শুধু পয়েন্ট হারায়নি, টানা খারাপ ফলের কারণে কোচিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এর মধ্যেই কোচ গিয়ের্মো হোয়োসকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ক্লাব নতুন কোচ হিসেবে সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেসকে নিয়োগের ঘোষণা দেয়; প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক পারমিট না পাওয়া পর্যন্ত হোয়োসেরই দায়িত্বে থাকার কথা ছিল।
তাই মন্ট্রিলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয় শুধু তিন পয়েন্টের হিসাব নয়, মায়ামির আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও বড় বার্তা। বিশেষ করে মেসির জন্য জয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপের পর ক্লাব ফুটবলে ফিরেও ব্যক্তিগতভাবে গোল করে যাচ্ছিলেন তিনি, কিন্তু দলীয় ফলাফল তার পারফরম্যান্সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছিল না। টরন্টোর বিপক্ষে হারেও মেসিই মায়ামির একমাত্র গোলটি করেছিলেন।
মন্ট্রিলের বিপক্ষে সেই মেসিই এবার তিনবার বল পাঠালেন জালে। আর তার হ্যাটট্রিকের হাত ধরে মায়ামি ফিরে পেল সেই পুরোনো আত্মবিশ্বাস-যে আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জিতেছিল।


