দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে ভিসা জটিলতার কারণে খেলতে পারেননি তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলি। দ্বিতীয় ম্যাচে দলের ব্যাটিং যখন ধুঁকছিল, তখন তাঁরাই হয়ে উঠলেন প্রতিরোধের মূল ভরসা। এর আগে বল হাতেও প্রথম দিনের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদের কার্যকর বোলিংয়ের পর হৃদয়-জাকেরের ব্যাটিংয়ে স্বস্তির দিন পার করেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
পচেফস্ট্রুমে প্রথম দিনটি ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের। ৪ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা স্বাগতিকেরা শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ৫১২ রানে। শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা মাত্র ১০১ রান যোগ করেই।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল নাঈম হাসান। অফ স্পিনার নিয়েছেন ৪ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের শিকার ৩ উইকেট।
দিনের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ধাক্কা দেন রেজাউর রহমান রাজা। আগের দিন ১১১ রানে অপরাজিত থাকা কিপার-ব্যাটার সিনেথেম্বা কেশিলেকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। কেশিলে এরপর আর মাত্র ১৭ রান যোগ করতে পেরেছেন।
এরপর ডেলানো পটগিটারকে বোল্ড করে দ্রুতই আরেকটি উইকেট তুলে নেন নাঈম। তবে গ্যাভিন ক্যাপলান ও কাইল সিমন্ডস কিছুটা সময় দলকে সামলে নেন।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে মাত্র ২৩ ম্যাচ খেলেই অষ্টম শতকের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন ক্যাপলান। শেষ পর্যন্ত ৯৭ রানে তাঁকে বোল্ড করেন হাসান মুরাদ। এরপর আট নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন সিমন্ডস। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ৪১ বলে ৬৬ রান করেন তিনি। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ পেরিয়ে যায় ৫০০।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ২৩ টেস্ট খেলা ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ফিরে যান মাত্র ৯ রানে। আগের ম্যাচেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ১৯ ও ১ রান।
তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও তাওহিদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ৩৯ রানের জুটির পর ভাঙে সেই জুটি। নাঈম শেখ আউট হন ৩৪ রানে।
এরপর হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন আফিফ হোসেন। কিন্তু এই জুটিও বড় হয়নি। আগের ম্যাচে ৮ ও ৬ রানে আউট হওয়া আফিফ এবার করেন ২৯ রান।
আফিফ ফেরার পর বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় আরও নড়বড়ে। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন হৃদয় ও জাকের। দিনের শেষভাগে তাঁদের ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে স্বস্তি এনে দেয়।
দিন শেষের সময় জুনে টেস্ট অভিষেক হওয়া হৃদয় অপরাজিত ৭৫ রানে। ১১টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস। অন্য প্রান্তে জাকের অপরাজিত ৪৭ রানে। তাঁর ইনিংসে আছে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ৩১১ রান পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে হৃদয়-জাকেরের প্রতিরোধে অন্তত দিন শেষের স্বস্তিটুকু পেয়েছে সফরকারীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ১১৫.১ ওভারে ৫১২/১০
বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ৫৭ ওভারে ২০১/৪


