চোট পাননি, অথচ চোটের অজুহাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে ব্যাট করতে নামেননি-পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হককে ঘিরে এমন অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত দেশটির ক্রিকেটাঙ্গন। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসেই ব্যাট না করা ইমামকে ম্যাচ শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর অতীতের কয়েকটি ঘটনাও সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি নিছক ভুল সিদ্ধান্ত, নাকি চোটের অজুহাতে মাঠ এড়িয়ে যাওয়ার পুরোনো প্রবণতা?
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ইমাম জানান, পায়ের পেশিতে টান ধরেছে। সেই কারণে ম্যাচের দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে নামেননি তিনি। ফলে পাকিস্তানকে কার্যত এক ব্যাটার কম নিয়েই খেলতে হয়। কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ দিনে ইমামকে অনুশীলনে দেখা যায়। পায়ে টেপ লাগানো থাকলেও তাঁর চলাফেরায় গুরুতর চোটের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি-এমন দাবি থেকেই শুরু হয় সমালোচনা।
ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডও প্রশ্ন তুলেছেন ইমামের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তাঁর যুক্তি, অতীতে গুরুতর চোট নিয়েও ঋষভ পন্থ, ক্রিস ওকস কিংবা নেথান লায়নের মতো ক্রিকেটাররা দলের প্রয়োজনে মাঠে নেমেছেন। সেই তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে ইমামের দুই ইনিংসেই ব্যাট না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে বিতর্কের সবচেয়ে বড় কারণ ইমামের অতীত। ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরের একটি ওয়ানডের আগে নেটে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার দাবি করেছিলেন তিনি। স্ক্যানে উল্লেখযোগ্য চোট ধরা না পড়লেও ইমাম তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তাঁর গোড়ালিতে কালশিটের মতো দাগ দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, সেটি নাকি রক্ত জমাট নয়, কলমের কালি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তখনও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

এর আগেও ইমামের চোটের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন পিচে খেলার পরিস্থিতি তৈরি হলে ইমাম চোটের অজুহাত দিতে পারেন-এমন আশঙ্কা আগেও দলের ফিজিওর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে মুলতানে একটি টেস্টের আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল বলেও দাবি করেছেন ওয়াসিম। পরীক্ষায় চোট না মিললেও ইমাম খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য।
পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইমামের অনুপস্থিতি দলের ব্যাটিং গভীরতাকে প্রভাবিত করেছে। মাঠে নামতে না পারা এক ব্যাটারের জায়গা পূরণ করাও টেস্ট ক্রিকেটে সহজ নয়। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দল।
এখন ইমামের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নিজের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়া নয়, বরং তাঁর সিদ্ধান্তের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা। অতীতের অভিযোগের সঙ্গে লর্ডসের ঘটনাটি মিলে যাওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


