ডিএফবি-পোকাল শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বড় অঘটনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হতে দেয়নি বায়ার্ন মিউনিখ। দ্বিতীয় স্তরের দল ওসনাব্রুকের বিপক্ষে শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে জার্মানির বর্তমান বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা। জয়ে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করেছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
বায়ার্নের শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ অস্বস্তিকর। ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই রবেন মেইসনারের অসাধারণ গোলে এগিয়ে যায় ওসনাব্রুক। গোলটি ছিল বায়ার্নের রক্ষণভাগের ভুলের পরিণতি নয়, বরং মেইসনারের ব্যক্তিগত দক্ষতার দারুণ প্রদর্শন।
একটি সাধারণ ক্লিয়ারেন্স সামলাতে ব্যর্থ হন বায়ার্নের নতুন মুখ জোনাথন তাহ। মাটিতে পড়ে যান তিনি, আর সেই সুযোগে কিম মিন-জায়ের সঙ্গে লাফিয়ে বল দখলে নেন মেইসনার। এরপর প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বল মাটিতে পড়ার আগেই ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে সেটিকে পাঠিয়ে দেন গোলে। গোলরক্ষক জোনাস ক্রুমরির কিছুই করার ছিল না।
হঠাৎ পাওয়া এই ধাক্কাই যেন বায়ার্নকে জাগিয়ে দেয়। মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরান হ্যারি কেন। জশুয়া কিমিখের নিখুঁত চিপ থেকে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দুই সেন্টার-ব্যাকের মাঝ দিয়ে ছুটে গিয়ে মাথা দিয়ে বলটি সামান্য তুলে নেন তিনি। এরপর বল মাটিতে পড়তেই নিচু ভলিতে জালে জড়িয়ে দেন কেন।
সমতা ফেরানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় বায়ার্ন। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার গোলটিও আসে দারুণ প্রেসিং ও নিখুঁত সমন্বয় থেকে।
ওসনাব্রুকের অর্ধে বল কেড়ে নেন টম বিসফ। দ্রুত বল দেন মাইকেল অলিসের কাছে। এরপর ১৮ গজের কাছাকাছি জায়গা থেকে শেষ রক্ষণভাগ ভেদ করে লুইস দিয়াজকে বল বাড়িয়ে দেন অলিস। দিয়াজ প্রথম স্পর্শেই শট নেন। ক্রুমরি তা ঠেকাতে পারলেও বল বিপদসীমার মধ্যেই থেকে যায়। দৌড় থামাননি বিসফ। ছুটে গিয়ে ফিরতি বল পেয়ে কোণাকুণি শটে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

বিরতির পরও বায়ার্নের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ওসনাব্রুকের জন্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকলেও ৭৩ মিনিটে সেই সম্ভাবনাও কার্যত শেষ করে দেন অলিসে।
ওসনাব্রুকের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রবিন ফাবিনস্কি স্লাইডিং চ্যালেঞ্জে দুর্বলভাবে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে ফাঁক বুঝে বলটি পায়ের কাছ থেকে কেড়ে নেন অলিসে। এরপর সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ক্রুমরিকে বোকা বানিয়ে দারুণ এক চিপে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বায়ার্ন তখন পুরোপুরি নিশ্চিন্ত।
শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেন। বক্সের মধ্যে বায়ার্নকে দেওয়া স্পট-কিক ঠেকাতে সঠিক দিকেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন ক্রুমরি। কিন্তু কেনের শট ছিল এতটাই নিখুঁত যে তাঁর পক্ষে বল আটকানো সম্ভব হয়নি। বাঁ পোস্টের ঠিক ভেতর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।
এই ম্যাচে কোম্পানি ওসনাব্রুককে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেননি। মাত্র দুই মৌসুম তৃতীয় স্তরে কাটানোর পর নতুন করে বুন্দেসলিগায় ফেরা দলটির বিপক্ষে বায়ার্নের একাদশে রাখা হয়েছিল সপ্তাহান্তে স্টুটগার্টকে ৫-১ গোলে হারানো ম্যাচের ছয়জন খেলোয়াড়কে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কেন, অলিসে, দিয়াজ ও কিমিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তারকারা।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শুরুতে মেইসনারের সেই অসাধারণ গোল বায়ার্নকে কিছুটা বিপাকে ফেললেও কেনের সমতায় ফেরানো গোলের পর আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি তারা। বিসফ ও অলিসের গোলে ব্যবধান বাড়ে, আর শেষদিকে কেনের পেনাল্টি নিশ্চিত করে ৪-১ জয়।


