খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয়ের জন্য চেলসির পরিচিতি নতুন নয়। তবে এবার খেলোয়াড় বিক্রি করেই আলোচনায় এসেছে ইংলিশ ক্লাবটি। চলতি গ্রীষ্মের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে ৪৪৮ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে চেলসি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।
ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান ফুটবলে একটি দলবদল মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রি করে এর আগে কোনো ক্লাব এত বেশি অর্থ আয় করতে পারেনি। আর্থিক নিয়ম মেনে চলা এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ধরে রাখার চাপেই এবার বড় পরিসরে খেলোয়াড় বিক্রির পথে হাঁটতে হয়েছে চেলসিকে। সেই বিক্রিই শেষ পর্যন্ত তাদের এনে দিয়েছে বিশ্বরেকর্ড।
চেলসির এই বিশাল আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে এনজো ফার্নান্দেজের দলবদল থেকে। দলবদলের শেষ দিনে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বিক্রি করেছে স্টামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটি। এই দলবদল প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ডও গড়েছে।
এনজোকে বিক্রি করেই অবশ্য থামেনি চেলসি। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়ে দলবদল থেকে আয় বাড়িয়েছে তারা। আন্দ্রে সান্তোসকে ৫৬.৩ মিলিয়ন, নিকোলাস জ্যাকসনকে ৫৫.৫ মিলিয়ন এবং মার্ক কুকুরেইয়াকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করেছে ক্লাবটি।
এ ছাড়া লিয়াম ডেলাপ ৫২ মিলিয়ন, ট্রেভো চালোবাহ ৩০ মিলিয়ন, টাইরিক জর্জ ২১ মিলিয়ন, মার্ক গিয়েহি ১৫ মিলিয়ন এবং তোসিন আদারাবিওয়ো ১১.৭ মিলিয়ন ইউরোতে চেলসি ছেড়েছেন।
সব মিলিয়ে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে ৪৪৮ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল অঙ্ক আয় করেছে চেলসি। এতে একদিকে স্কোয়াডের আকার কমেছে, অন্যদিকে ক্লাবের আর্থিক হিসাবেও এসেছে স্বস্তি।
গত কয়েক বছরে খেলোয়াড় কেনায় বিপুল অর্থ খরচ করেছে চেলসি। এবার আর্থিক নিয়মের চাপ সামলাতে সেই স্কোয়াডের একাধিক খেলোয়াড়কে বিক্রি করতে হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে।
চেলসির জন্য তাই এবারের দলবদল শুধু খেলোয়াড় বিক্রির হিসাবেই বড় নয়, ক্লাব ফুটবলের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী এক নজির হয়ে থাকল।


