শনিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে অষ্টম চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপ

বাংলাদেশে উশুর প্রসার এবং বাংলাদেশ-চীনের ক্রীড়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে অষ্টম চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬। দেশের উশু অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা।

বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের চ্যাম্পিয়নশিপ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া।

উশুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং ক্রীড়া অঙ্গনের অন্যান্য অতিথিরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের উশু ক্যালেন্ডারে চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের উশু খেলোয়াড়দের নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে এই আসর।

এর আগে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রতিযোগিতাটির সপ্তম আসর। সেই আসরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)সহ মোট ১৭টি দল অংশ নিয়েছিল। ফলে প্রতিবছরই এই প্রতিযোগিতার পরিসর ও গুরুত্ব বাড়ছে।

এবারের আসরেও দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের উশু খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটি আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।

শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশে উশুর তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তার ঘটাতেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের উশুর প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

একই সঙ্গে চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ক্রীড়া বিনিময় আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে এই আয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, অষ্টম চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উশুর জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। পাশাপাশি দেশের উশু খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles