৯৬ মিনিটের অবিশ্বাস্য গোলে ম্যান ইউকে রুখে দিল এভারটন

প্রিমিয়ার লিগে নাটকীয় এক ম্যাচে এভারটনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুইবার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি রুবেন আমোরিমের দল। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোল করে এভারটনকে এক পয়েন্ট এনে দেন অভিষিক্ত আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস।

হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায়। বিরতির পর মাত্র ৬১ সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্দান্ত এক ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গোল করেন ব্রায়ান এমবেউমো। একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে এভারটনের জালে বল পাঠান তিনি।

তবে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি এভারটন। ঘরের মাঠে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে ডেভিড ময়েসের দল। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। টাইরিক জর্জের জোরালো শট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেন্নে ল্যামেন্সকে পরাস্ত করে। কাছের পোস্ট দিয়ে নেওয়া তার ভয়ংকর শট থামানোর কোনো সুযোগই ছিল না ল্যামেন্সের।

১-১ সমতায় ফেরার পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শেষ দিকে আবারও এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বেঞ্জামিন শেশকো হেড করে গোল করে ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে, অর্থাৎ ৯৫ মিনিট ১১ সেকেন্ডে গোল করে এভারটনকে সমতায় ফেরান আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের এভারটন অভিষেকেই এমন অসাধারণ গোল করেন তিনি। দূরপাল্লার শটটি বাঁক খেয়ে সরাসরি গোলের ওপরের কোণে গিয়ে জড়ায়। ল্যামেন্সের পক্ষে সেটি ঠেকানো ছিল প্রায় অসম্ভব।

ডেডলাইন ডে-তে এভারটনে যোগ দেওয়া মেইটল্যান্ড-নাইলস বেঞ্চ থেকে নেমেই হয়ে যান ম্যাচের নায়ক। তার গোলটি শুধু দলকে এক পয়েন্টই এনে দেয়নি, গড়েছে এভারটনের ইতিহাসেও একটি বিশেষ নজির। ২০১৮ সালের আগস্টে রিচার্লিসনের পর এভারটনের হয়ে অভিষেকেই গোল করা প্রথম খেলোয়াড় তিনি।

এভারটনের মাঠ হিল ডিকিনসনে এটিই এখন পর্যন্ত ঘরের মাঠে সবচেয়ে দেরিতে করা গোল। ৯৫ মিনিট ১১ সেকেন্ডে করা মেইটল্যান্ড-নাইলসের গোলটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে নাটকীয় সমতাও নিশ্চিত করে।

এ ম্যাচে এভারটনের আক্রমণভাগ নিয়েও ছিল আলোচনা। দলটি বর্তমানে কার্যত একমাত্র স্ট্রাইকার থিয়েরনো বারির ওপর নির্ভরশীল। দলবদলের বাজারে এভারটনের কার্যক্রমকে ধারাভাষ্যকার ও সাবেক লিভারপুল তারকা জেমি ক্যারাগার ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। যদিও ম্যাচে বারির xG বা প্রত্যাশিত গোলের মূল্য ছিল মাঠের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি, তিনি একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

তবু শেষ পর্যন্ত সেটি এভারটনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। কারণ জর্জ ও মেইটল্যান্ড-নাইলসের অসাধারণ দুটি গোল ম্যাচে দলকে সমতায় রাখে।

অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য ড্রয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে থাকল রক্ষণভাগের দুর্বলতা। প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই অন্তত দুটি করে গোল হজম করেছে তারা। গত ৫০ বছরে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল ইউনাইটেডের ক্ষেত্রে। এর আগে ২০২০-২১ মৌসুমে প্রথম তিন লিগ ম্যাচেই অন্তত দুই গোল করে হজম করেছিল তারা।

ডেভিড ময়েসের এভারটন হয়তো স্কোয়াডের গভীরতায় খুব শক্তিশালী নয়, তবে গোল করার মতো খেলোয়াড়ের অভাব যে নেই, এই ম্যাচে তারই প্রমাণ মিলেছে। গ্রীষ্মে দলে যোগ দেওয়া টাইরিক জর্জ ও আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস দুজনই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে জ্যাক গ্রিলিশের মাঠে নামাও এভারটনের আক্রমণে বাড়তি প্রাণ ফেরায়।

শেষ পর্যন্ত দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে এভারটন। আর দুইবার লিড নিয়েও জয়হীন থাকতে হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেইটল্যান্ড-নাইলসের সেই অসাধারণ গোলই শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles