বুন্দেসলিগায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে স্বাগতিক আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে অগসবুর্গ। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা অগসবুর্গ দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর আরও দুই গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে তারা। এই জয়ে সরাসরি বুন্দেসলিগার শীর্ষে উঠে গেছে ম্যানুয়েল বাউমের দল।
ডয়চে ব্যাংক পার্কে ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠের সমর্থকদের সামনে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট। আগের ম্যাচে ইউনিয়ন বার্লিনের সঙ্গে ড্র করায় হতাশ ছিল স্বাগতিকরা। তাই মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নিতে মরিয়া ছিল আদির হুটারের দল।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে সদ্য উন্নীত শালকের বিপক্ষে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে অগসবুর্গ। ফ্রাঙ্কফুর্ট যে শালকের তুলনায় কঠিন প্রতিপক্ষ হবে, সেটি জানা ছিল তাদের।
ফ্রাঙ্কফুর্টের একাদশে মৌসুমে প্রথমবারের মতো শুরু করেন মারিও গোটজে ও রিৎসু দোয়ান। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দলে যোগ দেওয়া লিলিয়ান ব্রাসিয়েরও জায়গা পান রক্ষণভাগে। অগসবুর্গের অ্যান্টন কাডে চোটের কারণে খেলতে না পারায় তার জায়গায় সুযোগ পান আরিজন ইব্রাহিমোভিচ।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট। গত সপ্তাহে হ্যাটট্রিক করা ইয়ুনেস এবনুতালিব এবার গোল না করে সতীর্থকে গোল করান। তার নিখুঁত ক্রস বক্সের পেছনের পোস্টে গিয়ে পৌঁছালে সবচেয়ে উঁচুতে উঠে হেড করে ফ্রাঙ্কফুর্টকে এগিয়ে দেন জোনাথান বুরকার্ডট।
গোলের পরও প্রথমার্ধে দাপট ধরে রাখে ফ্রাঙ্কফুর্ট। বিশেষ করে এবনুতালিব অগসবুর্গের রক্ষণে একের পর এক সমস্যা তৈরি করেন। ব্যবধান দ্বিগুণ করার একাধিক সুযোগও পায় স্বাগতিকরা। এবনুতালিব, উজুন ও ওনিয়েদিকা—তিনজনই সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।
প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময়ই অগসবুর্গ ছিল পিছিয়ে। তবে বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তারা। ফাবিয়ান রিডারের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
আর এই সুযোগগুলো নষ্ট করার খেসারত দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দিতে হয় ফ্রাঙ্কফুর্টকে।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ২৬ সেকেন্ডের মধ্যেই সমতায় ফেরে অগসবুর্গ। মারিয়ুস উলফের ক্রস থেকে বল পান আরিজন ইব্রাহিমোভিচ। এলিয়াস বাউমের গায়ে লেগে বলের গতিপথ সামান্য পরিবর্তন হয় এবং শেষ পর্যন্ত বলটি ফ্রাঙ্কফুর্ট গোলরক্ষক নোয়া আতুবুলুকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
সমতায় ফেরার পর অগসবুর্গ যেন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। এক মিনিটও না পেরোতেই ম্যাচে এগিয়ে যায় তারা। ইব্রাহিমোভিচের নিচু শট সাবেক ফ্রাইবুর্গ গোলরক্ষক আতুবুলুর হাত ফসকে যায়। সেই সুযোগে সামনে থাকা রবিন ফেলহাউয়ার বল জালে পাঠিয়ে অগসবুর্গকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
প্রথমার্ধে যেখানে ফ্রাঙ্কফুর্টের দাপট ছিল, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেখানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় অগসবুর্গ।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি ব্যবধান আরও বাড়ায় সফরকারীরা। বদলি হিসেবে নামা আলেক্সিস ক্লোদ-মরিস অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান। তার দুর্দান্ত এই প্রচেষ্টায় হতবাক হয়ে যায় ডয়চে ব্যাংক পার্কের দর্শকরা।
তিন গোল হজমের পর বলের দখল আবারও নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ফ্রাঙ্কফুর্ট। তবে প্রথমার্ধের মতো সহজে আর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। আক্রমণভাগে সৃজনশীলতারও ঘাটতি দেখা যায়। রিৎসু দোয়ানের দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়াই হয়ে ওঠে তাদের সেরা সুযোগগুলোর একটি।
ম্যাচ যখন শেষের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন অগসবুর্গের বড় জয়কে আরও দৃষ্টিনন্দন করেন ফাবিয়ান রিডার। অসাধারণ এক ফ্রি-কিকে তিনি বল জালে পাঠান। আতুবুলুর কিছুই করার ছিল না।
ফলে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অগসবুর্গ।
ম্যাচটি যেন ছিল দুই অর্ধের সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প। প্রথমার্ধে ফ্রাঙ্কফুর্টের দাপট থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় অগসবুর্গ। যদিও স্কোরলাইন মাঠের পুরো চিত্রকে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরে না, তবুও ফ্রাঙ্কফুর্টের জন্য এটি ছিল হতাশাজনক ও সতর্কবার্তামূলক হার।
অন্যদিকে, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে পাওয়া এই জয় অগসবুর্গের জন্য হয়ে উঠেছে অসাধারণ এক সাফল্য। তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা সরাসরি উঠে গেছে বুন্দেসলিগার শীর্ষে।


