ইমরানের পাশে দাঁড়ালেন ওয়াসিম আকরাম

কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। ইমরানের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রাজনীতির বাইরে ইমরানকে নিজের বন্ধু ও মেন্টর হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে মিস করার কথাও বলেছেন আকরাম।

‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ইমরানের সঙ্গে প্রায় তিন বছর তাঁর কথা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিষয়কে এক পাশে রেখে বন্ধুর স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

আকরাম বলেন, ‘তিনি আমার বন্ধু, আমি তাঁকে অনেক মিস করি। তাঁর সঙ্গে তিন বছর কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে তাঁর সঙ্গে যা ঘটছে, তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের আইন আদালতের আইন। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো আপস করা যায় না।’

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী আছেন ইমরান। দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে তাঁর। তবে ইমরান ও তাঁর দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত মাসে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন দেশটির ২২ জন সাবেক অধিনায়ক। চিঠিতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

বর্তমান অধিনায়কদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সও ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারাও ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানান। তিনি ইমরানকে ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি উল্লেখ করে ন্যূনতম মানবিক আচরণ পাওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

ইমরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, মঈন খান ও রমিজ রাজাও। অশ্রুসিক্ত এক আবেদনে ইমরানের মুক্তি দাবি করার পাশাপাশি সরকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন মিয়াঁদাদ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চ বিরতিতে স্কাই স্পোর্টসে ইমরানের দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। সেখানে তাঁরা বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে স্কাই স্পোর্টসের কাছে অভিযোগ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দল মাঠে না নামার কথাও বিবেচনা করেছিল বলে খবর আসে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচটি খেলেছে পাকিস্তান এবং ১৯৪ রানে হেরেছে।

ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আকরাম বলেন, ‘এরপর এখানে (পাকিস্তানে) কিছুটা শোরগোল পড়ে যায়। পরে পড়েছি, পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে কতজন দেখা করেছেন, কতগুলো ফোনকল হয়েছে—সব সংখ্যাসহ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আসলে কী বিশ্বাস করব, সেটা বোঝা কঠিন।’

ইমরানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন আকরাম। তিনি বলেন, ‘অবসর নেওয়ার পরও আমরা দুজন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। আমি তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে যেতাম। তাঁর সঙ্গে কথা বলা মিস করি। রাজনীতি বাদ দিলে, একজন বন্ধু হিসেবে তাঁকে মিস করি।’

আকরামের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ইমরানের। আকরাম প্রায়ই ইমরানকে নিজের মেন্টর হিসেবে কৃতিত্ব দেন। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের নেতৃত্বে খেলেছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ফাইনালে ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন আকরাম।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের সূত্রপাত আদালতের একটি নির্দেশকে ঘিরে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তাঁকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ইমরানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাই জানিয়েছেন আকরাম। তাঁর ভাষায়, ‘একজন মানুষ হিসেবে তাঁকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আমি হৃদয় থেকে কথা বলছি। তিনি দোষী সাব্যস্ত হন বা না হন, জেলে থাকুন বা না থাকুন-তাঁর স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কী ঘটছে, আমরা জানি না। সরকার বলছে, তাঁর স্বাস্থ্য নাকি ভালো। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন। আমি তাঁকে অনেক মিস করি।’

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles