রুট-কক্সের ব্যাটে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ ইংল্যান্ডের

এজবাস্টনে ৮ উইকেটের জয়, তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০

জো রুট ও জর্ডান কক্সের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে জয়ের জন্য পাওয়া ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রুট ৬২ ও কক্স ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেন।

চতুর্থ দিনের শুরুতে পাকিস্তানের আশা অবশ্য একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। আগের দিন নবম উইকেটে রাযাউল্লাহ ও মোহাম্মদ আব্বাসের ১২১ রানের জুটি পাকিস্তানকে বড় বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছিল। একসময় ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে ১২৯ রানের লিড দাঁড় করায়।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অবশ্য চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। দিনের প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ আব্বাস। বেন ডাকেটের বাজে সময়টা আরও দীর্ঘ করেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল এজ করিয়ে ডাকেটকে কট বিহাইন্ড করেন আব্বাস। এরপর এমিলিও গেকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ পেসার।

তবে এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি ইংল্যান্ড। জো রুট ও জর্ডান কক্স ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। শুরুতে সতর্ক থাকলেও পরে রান তোলার গতি বাড়ান দুজন। রুটের ব্যাটে ছিল দারুণ টাইমিং, আর কক্সও খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী শট।

২৩ রানে জীবন পান রুট। মোহাম্মদ আলীর বলে বোল্ড হয়েছেন মনে হলেও পরে দেখা যায়, পাকিস্তানি পেসারের পা ক্রিজের বাইরে চলে গিয়েছিল। নো-বল হওয়ায় বেঁচে যান রুট। এরপর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার। বাউন্ডারি মেরে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি ৫৭ বলে।

অন্য প্রান্তে কক্সও ছিলেন দুর্দান্ত। রাযাউল্লাহর বলে চমৎকার স্ট্রেইট ড্রাইভে চার মেরে নিজের অর্ধশতকের পথে এগিয়ে যান তিনি। পরে সাইম আইয়ুবের বলে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন কক্স।

শেষ পর্যন্ত রুট-কক্সের অপরাজিত জুটি ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে। এই সিরিজে কক্সের এটি তৃতীয় অর্ধশতক। মূলত ইনজুরিতে থাকা জ্যাকব বেথেলের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। উইকেটকিপার জেমি স্মিথের অনুপস্থিতিতেও দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্ব সামলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন কক্স।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান করে ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুক ৭৫, জেমি স্মিথ ৬৯, ড্যান লরেন্স ৬৫, এমিলিও গে ৬০ এবং অলি রবিনসন ৫০ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে রাযাউল্লাহ নেন ৪ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে বড় বিপদে পড়েছিল পাকিস্তান। সাকিলের ৪৩ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল না কারও। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিস টং ৪, অলি রবিনসন ৩ এবং জোফরা আর্চার ৩ উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান অবশ্য লড়াই করার চেষ্টা করে। অধিনায়ক শান মাসুদ ৯৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। বাবর আজম করেন ৭৬ এবং আজান আওয়াইস ৫৯ রান করেন। তবে ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স ছিল অভিষিক্ত রাযাউল্লাহর। মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি ছক্কা ও ৪টি চার।

বল হাতেও দারুণ ছিলেন রাযাউল্লাহ। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেন এই ২১ বছর বয়সী পেসার। তবে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও পাকিস্তানকে ম্যাচ কিংবা সিরিজ বাঁচাতে পারেনি।

পুরো সিরিজে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু করে তারা। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তান হারে ১৯৪ রানে। সেই পরাজয়ের পর পাকিস্তানের স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলেও তাতেও দলের ভাগ্য বদলায়নি।

তৃতীয় টেস্টেও প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও রুট ও কক্সের ব্যাটে তাদের সেই আশা শেষ হয়ে যায়।

সিরিজে ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অলি রবিনসন। তিন টেস্টে ২১ উইকেট নিয়ে ৮.৭৬ গড়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ‘টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য সামার’। তৃতীয় টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন ড্যান লরেন্স। প্রথম ইনিংসে ৬৫ রানের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ২ উইকেট।

অন্যদিকে, সিরিজজুড়ে পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছেন পাকিস্তানের ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’। তবে শেষ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রুট ও কক্সের জুটি ভাঙতে পারেননি তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

ইংল্যান্ড: ৪৫৩ ও ১৩২/২
ব্রুক ৭৫, স্মিথ ৬৯, লরেন্স ৬৫, গে ৬০, রবিনসন ৫০; রাযাউল্লাহ ৪/১৪৮।
রুট ৬২*, কক্স ৫৯*।

পাকিস্তান: ১৩৩ ও ৪৪৯
মাসুদ ৯৫, রাযাউল্লাহ ৮১, বাবর ৭৬, আওয়াইস ৫৯; টং ৪/৪২, রবিনসন ৩/১৫, আর্চার ৩/২৫।

ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়
সিরিজ: ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
ম্যাচসেরা: ড্যান লরেন্স
সিরিজসেরা (ইংল্যান্ড): অলি রবিনসন
সিরিজসেরা (পাকিস্তান): মোহাম্মদ আব্বাস

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles