লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের রাতে বার্সার পাঁচে পাঁচ

লেভান্তের মাঠে ম্যাচের শেষ ১২ মিনিট যেন হঠাৎ করেই বদলে দিয়েছিল পুরো গল্প। তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বার্সেলোনা মুহূর্তেই দেখতে পেল জয়ের অনিশ্চয়তা। দুই গোল করে লেভান্তে ব্যবধান ২-৩-এ নামিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বার্সার সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কারিম আদেয়েমির দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় সেই শঙ্কার অবসান। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের সুবাদে লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় তুলে নিল বার্সেলোনা।

এই জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তাদের ব্যবধান এখন তিন পয়েন্ট। পাঁচ ম্যাচে বার্সেলোনা করেছে ২১ গোল এবং হজম করেছে চারটি।

বার্সার জয়ে মূল নায়ক অবশ্যই লামিনে ইয়ামাল। স্প্যানিশ এই তরুণের পা থেকে এসেছে দুটি গোল। চলতি লিগে তাঁর গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয়। আগের ম্যাচেও জোড়া গোল করেছিলেন ইয়ামাল; ফলে মৌসুমের শুরুতেই তাঁর ধারাবাহিকতা বার্সার আক্রমণভাগকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।

তবে ইয়ামালের আলোয় শুরুতেই ছিলেন জাভি এসপার্ট। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে তাঁর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে লেভান্তের জালে জড়ালে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। সিনিয়র দলের হয়ে এটি ছিল এসপার্টের প্রথম গোল। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও ঘরের মাঠে লেভান্তে ভেঙে পড়েনি। ভিক্টর গার্সিয়ার প্রায় ৩০ গজ দূরের ফ্রি-কিক সহজেই ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। এরপর পেতার রাতকভের শট ব্লক হয়, রজার ব্রুগের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক। অর্থাৎ শুরু থেকেই ম্যাচটি একতরফা ছিল না।

বার্সেলোনা অবশ্য নিজেদের দ্বিতীয় আক্রমণাত্মক মুহূর্তেই ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলে। ১৯ মিনিটে ফের গোলের উৎস রাফিনহা। ফেরমিন লোপেসের বাড়ানো বল ডিফ্লেক্ট হয়ে রাফিনহার সামনে আসে। লেভান্তের গোলরক্ষক রায়ানকে কাটিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন ইয়ামালের দিকে। ছয় গজের মধ্যে থেকে সুযোগ পেয়ে ইয়ামাল আর ভুল করেননি। তাঁর শক্তিশালী শট জালের ছাদে গিয়ে আঘাত করে।

লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের রাতে বার্সার পাঁচে পাঁচ
বল দখলের লড়াইয়ে রাফিনহা

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বার্সেলোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের মুঠোয় নিতে পারেনি। বরং রক্ষণে কিছুটা অসতর্কতার ছাপ ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বার্সেলোনা আবার ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিয়ে নেয়। লেভান্তের ডিফেন্ডার আইসা মান্দির চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল বক্সের মধ্যে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট-কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। চলতি লিগে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল।

৩-০ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, বার্সেলোনার সামনে আরও একটি বড় জয় অপেক্ষা করছে। আগের ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল তারা; তার আগে লিগের প্রথম তিন ম্যাচেও আক্রমণভাগের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু লেভান্তে অন্য গল্প লিখতে শুরু করে।

বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার ভুল ক্লিয়ারেন্সের পর ফাঁকা জালে বল পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রুগে। কিন্তু তাঁর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর ইভান রোমেরোর সহজ সুযোগও গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন বদলি আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন। রোমেরোর আরেকটি শটও ব্লক হয়।
৭৯ মিনিটে লেভান্তে প্রথমবারের মতো বার্সার তিন গোলের ব্যবধান ভাঙে। বক্সের মধ্যে ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন ইভান রোমেরো। এরপর গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে প্রথমে শট নেন। হোয়ান গার্সিয়া সেটি ঠেকালেও ফিরতি বল পেয়ে দ্বিতীয় চেষ্টায় জালে পাঠান ব্রুগে। হঠাৎ করেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। যে বার্সেলোনা কিছুক্ষণ আগেও তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, সেই দলই শেষ দুই মিনিটে জয় ধরে রাখার লড়াইয়ে।

তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আদেয়েমি বল নিয়ে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে বল পাঠান রায়ানের পাশ দিয়ে। ৪-২। মুহূর্তেই নিভে যায় লেভান্তের প্রত্যাবর্তনের শেষ আশাটুকুও।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles