দশজন নিয়েও ইউনাইটেডকে হারাল ম্যানসিটি

ম্যানচেস্টার ডার্বি মানেই উত্তাপ, উত্তেজনা আর বিতর্ক। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। বরং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রবিবারের ১৯৯তম ম্যানচেস্টার ডার্বি যেন সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেল। ফিল ফোডেনের লাল কার্ড, আর্লিং হালান্ডের বিতর্কিত গোল, দুই পোস্টে ইউনাইটেডের আঘাত এবং যোগ করা সময়ে গিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার অসাধারণ সেভ। সব মিলিয়ে নাটকীয় এক ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

সিটির জয়ের নায়ক সেই পরিচিত মুখ-আর্লিং হালান্ড। ৬০ মিনিটে জসকো গভার্দিওলের ক্রস থেকে গোল করে তিনি শুধু দলের জয় নিশ্চিত করেননি, ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নিজের গোলসংখ্যাও নিয়ে গেছেন নয়ে। এর মধ্য দিয়ে এই দ্বৈরথে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে আরও দূরে নিয়ে গেলেন নরওয়ের এই তারকা।

তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে গোলের চেয়ে সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে। বিশেষ করে ফোডেনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো এবং হালান্ডের গোল বৈধ ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

২৩ মিনিটে ঘটনাটির সূত্রপাত। মাটিতে পড়ে থাকা ফোডেনকে ব্রুনো ফার্নান্দেজ লাথি মারার পর প্রতিক্রিয়ায় ফোডেনও পা চালান। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি মাইকেল অলিভার লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান সিটির এই তারকাকে। সিটির খেলোয়াড়েরা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলেও ভিডিও সহকারী রেফারি ম্যাথিউ ডনহিউ সিদ্ধান্ত বদলের মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি।

গোলদাতা আর্লিং হালান্ড

১০ জনের সিটিকে পেয়ে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মার্কাস রাশফোর্ডের দূরপাল্লার ফ্রি-কিক পোস্টে লাগে। বিরতির পর আরও বড় সুযোগ আসে কোবি মাইনুর সামনে। তাঁর বাঁকানো শট গোলরক্ষক দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

খেলোয়াড় সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও ইউনাইটেড সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। বরং ৬০ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে তারা। প্যাট্রিক ডর্গুর ভুলে বল হারানোর পর সিটির আক্রমণ তৈরি হয়। গভার্দিওলের ক্রস গোলমুখে পৌঁছালে পড়ে যেতে যেতে হালান্ড বলটি জালে পাঠান।

কিন্তু গোলের পরপরই শুরু হয় নতুন নাটক। মাঠের সিদ্ধান্তে হালান্ডকে অফসাইড দেখিয়ে গোল বাতিল করা হয়েছিল। পরে ভিডিও সহকারীর পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে যায়। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ সেন্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হালান্ড অনসাইড অবস্থানে ছিলেন এবং অফসাইডে থাকা ফার্নান্দেজ বলটি খেলেননি। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এই সিদ্ধান্তে ইউনাইটেডের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে সিটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এরপর অবশ্য ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ব্রায়ান এমবেউমো ও হ্যারি ম্যাগুয়ার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরাতে পারেনি স্বাগতিকেরা।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles