রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক, জোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত গোল আর আক্রমণভাগের ধারালো পারফরম্যান্সে রেসিং সান্তান্দারকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। বুধবার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে এই জয়ের মধ্য দিয়ে মৌসুমের শুরুতে টানা সাত ম্যাচ জয়ের ইতিহাস গড়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। লা লিগায় ছয় ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধানও ধরে রেখেছে তিন পয়েন্টে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে বার্সেলোনা। মাত্র অষ্টম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ক্যানসেলো। তাঁর শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায়। এরপর ২৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। রেসিংয়ের পেদ্রো ফেলিপে তাঁকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সা। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
তবে ৩০ মিনিটে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় রেসিং। একাধিক পাসের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে গোল করেন মাগুয়েতে গুয়ে। কিন্তু তাদের স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। ৩৬ মিনিটে ক্যানসেলোর দূরপাল্লার শট রেসিংয়ের আসিয়ের ভিয়ালিব্রের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢোকে। গোলটি ভিয়ালিব্রের আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত হয়। প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে রাফিনিয়া নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সার আক্রমণ থামেনি। ৬৫ মিনিটে গোলরক্ষক ভইচেখ শেজনির ভুলে রেসিংয়ের হয়ে ব্যবধান কমান ইয়াসির জাবিরি। বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে শেজনি বিপদে পড়লে সুযোগটি কাজে লাগান রেসিংয়ের এই ফরোয়ার্ড। এর কিছুক্ষণ পরই আবার পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। এবার করিম আদেয়েমিকে ফাউল করে রেসিংয়ের ইকের লুকো শাস্তি পান। রাফিনিয়া স্পট কিক থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

ম্যাচের ৭৮ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুস বার্সেলোনার ষষ্ঠ গোল করেন। দুর্দান্ত দক্ষতায় একাধিক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে লামিনে ইয়ামাল তাঁকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। শেষ বাঁশি বাজার আগে ৮৯ মিনিটে বার্সার সপ্তম গোলটি করেন ইয়ামাল। পুরো ম্যাচে একাধিকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েও সফল হতে না পারা তরুণ ফরোয়ার্ড এবার আদেয়েমির পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন।
রাফিনিয়ার তিন গোলের পাশাপাশি ক্যানসেলোর আক্রমণাত্মক ভূমিকা, আদেয়েমির গতি এবং ইয়ামালের সৃষ্টিশীলতা বার্সেলোনার জয়ে বড় অবদান রাখে। ম্যাচে দুই গোল হজম করলেও আক্রমণভাগের দুর্দান্ত কার্যকারিতায় প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেয়নি ফ্লিকের দল। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে ৩৩ গোল করেছে বার্সেলোনা, যা তাদের আক্রমণাত্মক শক্তিরই প্রমাণ।
এই জয়ের ফলে লা লিগায় বার্সেলোনার নিখুঁত সূচনা অব্যাহত থাকল। একের পর এক বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে শুরুতেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। রাফিনিয়ার দুর্দান্ত ফর্ম ও আক্রমণভাগের সমন্বয় ধরে রাখতে পারলে মৌসুমের পরবর্তী কঠিন পরীক্ষাগুলোতেও বার্সেলোনা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে পারবে।




