দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বুধবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে কারাবাও কাপের ম্যাচে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের কাছে হারের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় মৌসুমে প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপেই বিদায় নিল রেড ডেভিলরা। ঘরের মাঠে এমন হতাশাজনক হারের পর গ্যালারিজুড়ে শোনা গেছে সমর্থকদের দুয়োধ্বনি। একই সঙ্গে কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপও বেড়েছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ যুগে (১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে) সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই প্রথম ঘরের মাঠে কোনো ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও হারল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে, টটেনহামের কাছে ৩-২ গোলে হারের ম্যাচে। অর্থাৎ দীর্ঘ ৫০ বছর পর নিজেদের মাঠে দুই গোলের ব্যবধান নষ্ট করে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো ইউনাইটেডের।
ম্যাচে অবশ্য স্বপ্নের মতো শুরু করেছিল স্বাগতিকেরা। অষ্টম মিনিটে একাডেমির তরুণ শিয়া লেসির গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ব্রাইটনের গোলরক্ষক জেসন স্টিলকে পরাস্ত করেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ইউনাইটেডের হয়ে নিজের প্রথম শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েই গোল করে লেসি উদ্যাপনে দলের ব্যাজে চুমু খান।
লেসি হলেন মার্কাস রাশফোর্ডের পর প্রথম কিশোর ফুটবলার, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে নিজের প্রথম শুরুতে গোল করলেন। রাশফোর্ডও নিজের প্রথম শুরুর ম্যাচে গোল করেছিলেন। এরপর ১০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসন মাউন্ট। রাশফোর্ডের প্রচেষ্টা ব্রাইটনের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে ফিরতি বল মাটিতে শট নিয়ে জালে পাঠান মাউন্ট।

দুই গোল হজম করেও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি ব্রাইটন। বরং ধীরে ধীরে আক্রমণে ধার বাড়াতে থাকে সফরকারীরা। ইউনাইটেডের রক্ষণে একের পর এক ভুলের সুযোগ নিতে থাকে তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে চারালামপোস কোস্তুলাস গোল করে ব্যবধান কমান। ফলে বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকলেও স্বস্তিতে থাকার সুযোগ ছিল না ক্যারিকের দলের।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাইটনের আক্রমণের সামনে আরও অগোছালো হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। ৬৫ মিনিটে অধিনায়ক পাসকাল গ্রস ঠান্ডা মাথায় গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর বদলি খেলোয়াড় ম্যাক্সিম দে কুইপার মাঠে নামার পরপরই প্রভাব রাখেন। কোস্তুলাসের শট দিক পরিবর্তন করে তাঁর সামনে এলে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ব্রাইটনকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর ব্রুনো ফার্নান্দেসকে মাঠে নামান ক্যারিক। ইউনাইটেড সমর্থকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় আক্রমণাত্মক ফুটবলের দাবি জানালেও দলটি সেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। রাশফোর্ডকে লক্ষ্য করে ফার্নান্দেসের বাড়ানো বলে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ব্রাইটনের গোলরক্ষক স্টিল দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন।
শেষ দিকে ব্রাইটন আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। কোস্তুলাস ও দিয়েগো গোমেজের প্রচেষ্টায় চতুর্থ গোলের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে ইউনাইটেডের সমর্থকদের ‘আক্রমণ, আক্রমণ, আক্রমণ’ স্লোগানও দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখাতে পারেনি। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়।
গত মৌসুমে গ্রিমসবির কাছে হেরে কারাবাও কাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল ইউনাইটেড। এবারও প্রতিযোগিতার শুরুতেই বাদ পড়তে হলো তাদের। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে না পারার ব্যর্থতা ক্যারিকের জন্য আরও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির কাছে আগের ম্যাচে হারের পর ব্রাইটনের বিপক্ষে এই বিপর্যয় ইউনাইটেডের চলতি মৌসুমের অনিশ্চয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।




